১। সুচনা

২। RSI কি?

৩। RSI পিটফলস

৪। RSI ট্রেডিং সিগনালস

  • অভারবট / অভারসোল্ড
  • বুলিশ ডাইভারজেন্স
  • বেয়ারিশ ডাইভারজেন্স
  • বুলিশ ডাইভারজেন্স পিটফলস
  • বেয়ারিশ ডাইভারজেন্স পিটফলস
  • বুল / বেয়ার মার্কেট ট্রেন্ড

৫। RSI পিরিয়ড সেটিং

৬। ট্রেডিং স্ট্রেটেজি

৭। উপসংহার

সুচনা

১৯৭৮ সালে জে. অয়েলস ওয়াইল্ডার RSI ইন্ডিকেটরটি তার সেমিনাল ১০৭৮, নিউ কনসেপ্ট ইন  টেকনিক্যাল ট্রেডিং সিস্টেম বইয়ের মাধ্যমে সবার সামনে আনেন। RSI ইন্ডিকেটরটির বেসিক কনসেপ্ট হলো ৭০ এবং তার উপরের জোনকে ধরা হয় অভারবট বা অভার ভ্যালুড  হিসেবে।  ৩০ এবং তার নিচের জোনকে ধরা হয় ওভারসোল্ড বা ডিভ্যালুড হিসেবে।  

RSI কি?

রিলেটিভ স্ট্রেংথ ইনডেক্স সংক্ষেপে আমরা বলি RSI. স্টক মার্কেট বা ফরেক্স অথবা যেকোন এসেট মার্কেটের অভারবট এবং অভারসোল্ড কন্ডিশন বুঝার জন্যই মুলত RSI ক্রিয়েট করা হয়েছে। এটা একটা মোমেন্টাম বেইজ ইন্ডিকেটর। অভারবট জোন কাউন্ট করা হয় RSI ব্যান্ড যখন ৭০ বা তার উপরের জোনে থাকে তখন। আর অভারসোল্ড জোন কাউন্ট কর আহয় RSI ব্যান্ড যখন থাকে ৩০ বা তার নিচে। মুলত অভারবট জোন থেকে মার্কেট নরমালি ড্রপ করে, এবং ওভারসোল্ড জোন থেকে মার্কেট রিবাউন্ড করে যদি না শক্তিশালী ট্রেন্ড থাকে মার্কেটে। আইমিন রিভার্সাল এবং রিট্রেস্মেন্ট, প্রফিট টেকিং কন্ডিশন খুব সুন্দরভাবে বুঝা যায় RSI ইন্ডিকেটর দিয়ে।

RSI পিটফলস

মার্কেটে যদি শক্তিশালী ট্রেন্ড থাকে সেক্ষেত্রে অভারসোলদ এবং অভারবট জোন মিস-রিডিং দেয়। এই জন্য RSI এর পাশাপাশি মার্কেট ট্রেন্ড সম্পর্কে সম্মক ধারনা থাকা উচিৎ। প্রাইজ টপ্স এবং বটমের ঘটনা ঘটে ট্রেন্ড শক্তিশালী থাকলে। যেকারনে শক্তিশালী ট্রেন্ডি মার্কেটে RSI এর পভারবট এবং অভারসোল্ড কন্ডিশন তখন ভুল সিগন্যাল দেয়। বাট ট্রেন্ড আইডেন্টিফাই করে RSI ইউজ করলে বেশ ভালো ফল পাওয়া যায়।

উপরের চিত্রটা দেখুন, ট্রেন্ড সখন শক্তিশালী ডাউন ট্রেন্ডে তখন ওভারসোল্ড জোন থেকে মার্কেট খুব একটা উঠতে পারে নাই,  যদিও  RSI ব্যান্ড কিন্তু উপরে উঠে গেছে। অর্থাৎ শক্তিশালী ট্রেন্ডের সময় ভুল রিডীং দিয়েছে RSI.

RSI ট্রেডিং সিগন্যাল

অভার বট সিগন্যালঃ  RSI যখন ৭০ বা তার উপরের জোনে থাকে তখন

আমাদের অভার কন্ডিশনের সিগন্যাল দেয়, অর্থাৎ এখন বাই মোড থেকে সরে আসার টাইম হয়েছে এনং সেলের সময় হয়েছে, মার্কেট এখং রিভার্সাল মোডে যাবে।

ওভারসোল্ড সিগন্যালস RSI ব্যান্ড যখন ৩০ বা তার নিচের জোনে থাকে তখন মার্কেট আমাদের সিগন্যাল দেয় সেল মোড থেকে বের হয়ে যাওয়ার এং বাই মোডে ঢুকার।

উপরের চার্টটা দেখুন, মার্কেট অভারসোল্ড এরিয়া থেকে রিবাউন্ড করেছে।

বুলিশ ডাইভারজেন্স. RSI এর বহুল ব্যাবহারের মাঝে সবচেয়ে জনপ্রিয় ব্যাবহার হলো এই ডাইভারজেন্স। মার্কেট যখন লোয়ার লো এবং RSI যখন হায়ার লো ক্রিয়েট করে তখন মুলত বুলিশ ডাইভারজেন্স ক্রিয়েট করে। RSI তখন লোয়ার লো ক্রিয়েট করবে না, তখন বুঝা যাবে মোমেন্টাম শক্তিশালী। বুলিশ ডাইভারজেন্স সিগন্যাল্গুলি যখন পাওয়া যায় মেজরিটি সময় এই প্যাটার্ন টা কাজ করে মার্কেটে। টেকনিক্যাল ট্রেডারদের কাছে এটা একটা জনপ্রিয় ট্রেডিং মেথড।

উপরের চার্টটা দেখুন, মার্কেট বুলিশ ডাইভারজেন্স ক্রিয়েট করে উঠে গেছে।

বেয়ারিশ ডাইভারজেন্সঃ  বেয়ারিশ ডাইভারজেন্স তখন ঘটে মার্কেটে যখন মার্কেট হায়ার হাই এবং RSI লোয়ার হাই ক্রিয়েট করে। আবার বলি বুলিশ এবং বেয়ারিশ ডাইভারজেন্স দুইটা মেথডই ওসাম কাজ করে মার্কেটে যদি শক্তিশালী ট্রেন্ডি মার্কেটে শুধু ট্রেড না করেন। মার্কেট হায়ার হাই ক্রিয়েট করতেছে আর RSI লোয়ার হাই অনেকটা নিশ্চিতভাবেই ট্রেড নেওয়া যায় তখন। বড় ধরনের ফান্দফামেন্টাল ইস্যু না থাকলে সচরাচর এই ট্রেড মিস হয় না।

উপরের চার্টতা দেখুন মার্কেট বেয়ারিশ ডাইভারজেন্স ক্রিয়েট করে মার্কেট ড্রপ করেছে।

বুলিশ ডাইভারজেন্স পিটফল: যখন মার্কেট শক্তিশালী ডাউন ট্রেন্ডে থাকে তখন বুলিশ ডাইভারজেন্স পিটফল ক্রিয়েট করে এবং ডাউন ট্রেন্ড ক্যারিম করে মার্কেট। এক্ষেত্রে আমাদের মার্কেট মিস-গাইড করে। শক্তিশালী ডাউন ট্রেন্ড মার্কেটে বুলিশ ডাইভারজেন্স ক্রিয়েট করবে কিন্তু মার্কেটের ডাইরেকশনে কোন পরিবর্তন আনবে না। সো স্ট্রং ডাউন্ট্রেন্ড মার্কেটে আমাদের উচিৎ হবে না বুলিস ডাইভারজেন্স প্যারামিটার ইউজ করা।

উপরের চার্টাটা দেখুন, শক্তিশালী ডাউনট্রেন্ড মার্কেট বাট এক্ষেত্রে বুলিশ ডাইভারজেন্স পিটফল ক্রিয়েট করেছে।

বেয়ারিশ ডাইভারজেন্স পিটফলঃ  শক্তিশালী আপট্রেন্ড মার্কেটে বেয়ারিশ ডাইভারজেন্স ক্রিয়েট করে এবং মার্কেটের ডাইরেকশনে কোন ধরনের পরিবর্তন আনে না।  

উপরের চার্টটা দেখুন মার্কেট বেশ কয়েকবার আপট্রেন্ড মার্কেটে বেয়ারিশ ডাইভারজেন্স পিটফল ক্রিয়েট করেছে। অর্থাৎ মার্কেট পরার কথা থাকলেও সেটা উঠে গেছে। সো আবারো রিমাউন্ড করিয়ে দেই শক্তিশালী আপট্রেন্ড বা ডাউন ট্রেন্ড মার্কেটে RSI এর জ ইউজুয়াল ব্যাবহার কাজ করবেন না। সেটা তখন অন্যভাবে ইউজ করতে হবে। নিচে সেগুলি নিয়ে আলোচনা করবো ততক্ষন ধৈর্য ধরে পড়তে থাকুন।   

RSI বুলিশ মার্কেট ট্রেন্ড: কন্সটেনশ ব্রাউন এর মতে অসিলেটর ইন্ডিকেটরগুলি নিউজ বা ফ্ল্যাশ ক্র্যাশের মত ইন্ডিকেটরগুলি কখনো ০০ এবং ১০০ টাচ করে না। দেখা যাবে ১০ মিনিটের ক্যান্ডে হয়ো করছে কিন্তু ৫ মিনীতের ক্যান্ডে হয়তো করবে না। উইক্লি ক্যান্দে হয়তো করছে কিন্তু মান্থলিতে করবে না। আজ পর্যন্ত ফ্ল্যাশ ক্র্যাশ, ব্রেক্সিট বা CHF এর মত বড় মুভেও ডেইলি চার্টেও ০০ বা ১০০ টাচ করে নাই ছোট টাইম ফ্রেম ছাড়া। কেয়ামত পর্যন্তও হয়তো কখনোই করবে না। বুলিশ মার্কেটে RSI ৪০/৯০ এর মাঝে মুভ ফ্ল্যাকচুয়েট করে। এক্ষেত্রে RSI এর ৪০/৫০ এরিয়াটা মেজর সাপোর্ট হিসেবে খুব ভালো কাজ করে।

উপরের চার্টটা দেখুন  এখানে RSI এর ১৪ পিরিয়ড ডিফল্ট ভ্যালু ইউজ করা হয়েছে। মার্কেট প্রতিবার ৪০/৫০ এরিয়া টেস্ট করেই উঠে গেছে। আপট্রেন্ড মার্কেটে ৪০/৫০ জোন থেকে সুন্দর বাই মোডে থাকা যায়। সো আপট্রেন্ড মার্কেটে ৪০/৫০ এরিয়াটা কাউন্ট করবো আমরা মেজর সাপোর্ট হিসেবে।

RSI বেয়ারিশ মার্কেট ট্রেন্ড: বেয়ারিশ মার্কেটে RSI এর ১০ এবং ৬০ এর মাঝে উঠা নামা করে। এবং ৫০/৬০ এরিয়াটা কাজ করে রেসিস্টেন্স হিসেবে। অনেক সময় ৭০ পর্যন্ত মার্কেট উঠতেই পারে না, এর আগেই ড্রপ করে আবার।

সো ডাউন্ট্রেন্ড মার্কেটে আমপ্রা ৫০/৬০ এরিয়া থেকে সুন্দরবভাবেই আমরা সেল মোডে থাকতে পারি। উপরের চার্টটা লক্ষ্য করুন, মার্কেট ডাউন ট্রেন্ড মার্কেটে ৫০/৬০ এরিয়া টেস্ট করেই আবার ড্রপ করেছে। এক্ষেত্রে আমরা ডাইভারজেন্স কাউন্ট না করে RSI কে সাপোর্ট এবং রেসিস্টেন্স হিসেবে ব্যাবহার করবো।

RSI এর পিরিয়ড সেটিং

RSI এর পিরিয়ড একয়াট গুরুত্বপুর্ন কনসেপ্ট। RSI এর যে জনক ওয়াইল্ডার সে

ডিফল্ট হিসেবে ১৪ পিরিয়ড ইউজ করেছে। আপনি চাইলেই এই পিরিয়ড ইচ্ছা মত ইউজ করতে পারেন আপনার স্ট্রেতেজি অনুযায়ী। তবে আমার অভিজ্ঞতা বলে ১৪ ইউজ বেস্ট। অনেকে ৬, ২১ ইউজ করে থাকে মভিং এভারেজের সাথে মিলিয়ে। বাট আমার দেখা ১৪ তেই ভালো ফল পেয়েছি আমি। এবং বেশীভাগ ট্রেডাররাই এই ১৪ ইউজ করে। পিরিয়ড ১৪ মানে যে টাইম ফ্রেম আপনি ইউজ করবেন সে টাইম ফ্রেমের ক্লজিং ডাটা।  উপরের চিত্রে দেওয়া আছে কিভাবে পিরিয়ড বদলাবেন।

RSI ট্রেডিং স্ট্রেটেজি

মাত্র দুইটা স্টেপস ফল করলেই আপনি খুব সুন্দরভাবে RSI  দিয়ে ভালো একটা ট্রেডিং স্ট্রেটেজি দ্বার করাতে পারবেন।

স্টেপ ১ : প্রথমেই মার্কেটের ট্রেন্ড নির্ধারন করে ফেলুন।

স্টেপ ২ : অভার অল ট্রেড ডাইক্রেকশন অনুযায়ী RSI ব্যাবহার করে ট্রেড করুন।

যদি মার্কেট আপট্রেন্ডে থাকে তাহলে মার্কেট যখন পরবে RSI ৩০ এর কাছাকাছি থেকে বাই মোডে ঢুকেন যতক্ষন মার্কেট  মার্কেট রাইজিং চ্যানেলের নিচে স্ট্যাবল হচ্ছে। আর যদি মার্কেট ডাউন ট্রেন্ডে থাকে তাহলে তাহলে RSI এর কাছাকাছি যখন যাবে মার্কেট সে এরিয়া থেকে সেল মোডে থাকেন যতক্ষন না মার্কেট নেগেটিভ চ্যানেলের নিচে স্ট্যাবল হচ্ছে।

এখন প্রশ্ন করতে পারেন তাহলে ভাই আমাদের RSI এর কি দরকার? শুধু ট্রেন্ড লাইন দিয়েইতো ট্রেড করা যায়।

না, ব্যাপারটা এমন না। শুধু ট্রেন্ড লাইন ইউজ করলে আপনি মেজরিটি সময় ধরতে পারবেন না ট্রেন্ড লাইনের বডি টাচ করে মার্কেট আবার উঠে যাবে নাকি এর আগেই উঠবে। আপ ট্রেন্ড মার্কেটে সব সময় যে ট্রেন্ড লাইন টাচ করেই উঠে যাবে এমন খুব কম ঘটবে। কিন্তু RSI ৪০/৫০ টাচ করে বার বার উঠে যাবে সেটা আপনি সব সময় ধরতে পারবেন। মার্কেটের অনেক সময় ফেইক আউট ঘটে, কিন্তু RSI আপ ট্রেন্ড মার্কেটে কনফার্ম করবে যদি ডাইভারজেন্স হয়ে পরে সেক্ষেত্রে মার্কেট আবার ফেইক ব্রেক আউট করে উঠে যাবে। এই সব কারনেই দুইটা এক সাথে কম্বিনেশন করে ইউজ করা। ভালো একটা ফল পাওয়া যায়।

উপরের চার্টাটা দেখুন , ক্লিয়ার আপ ট্রেন্ড মার্কেট। সো আপনাকে প্রথমেই একটা ট্রেন্ড লাইন আকাতে হবে। যদি ট্রেন্ড লাইন ব্রেক না করে এবং RSI এর ডাইভারজেন্স ঠিক থাকে তাহলে ৩০ এর কাছাকাছি এরিয়া থেকে মার্কেট বারবার উঠে যাবে।

উপরের চার্টটা দেখুন, মার্কেট ক্লিয়ার ডাউন ট্রেন্ড। ৫০/৭০ এর উপরের এরিয়া থেকে মার্কেত বার বার ড্রপ করছে। যতক্ষন পর্যন্ত ট্রেন্ড লাইন ব্রেক না করবে এবং ডাইভারজেন্স ঠিক থাকবে ততক্ষন সেল মোড ক্যারি করবে।  

উপসংহার

RSI একটা পরীক্ষিত এবং শক্তিশালী ইন্ডিকেটর। যেয়াট দিয়ে মার্কেতের অভারবট এবং অভারসোল্ড কন্ডিশন সহজে নিরূপণ করা যায়। এন্ট্রি এক্সিট সহজে বের করা যায়। ট্রেন্ড ধরতে পারলে চ্যানেল আকিয়ে সাথে ডাইভারজেন্স আইডেন্টিভাই করে বেশ ভালো প্রফিট বের করার এক অনন্য ইন্ডিকেটর এই RSI.

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here