মার্কেটে যত অনিশ্চয়তাই থাকুক সেফ হেভেন এসেট সবসময় আপনাকে প্রফিট দিবে।

ব্রেক্সিট, ট্রেড ওয়ার, রাজনৈতিক খারাপ পরিস্থিতি, অর্থনৈতিক মন্দা যেকোন পরিস্থিতিতেই সবচেয়ে নিরাপদ হলো সেফ হেভেন এসেট বাই মোডে থাকা। কয়দিন আগেই জাপানে জি-২০ মিটিং হয়ে গেলো, সেখানে বিশ্ব নেতারে একটা বিষয়ে একমত ট্রেড ওয়ারের কারনে সব দেশেরই অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি কমে গেছে।

চিন-আমেরিকার মাঝে ট্রেড ওয়ার আসলে সকল দেশকেই ভোগাচ্ছে। কারন এই দুইটা দেশের জিডিপি ৪০% সারা পৃথিবীর তুনলায়। আর ট্যারিফের কারনে দুইটা দেশের বিজনেসই কম বেশী ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছে।

জাপানে জি-২০ মিটিং এ চিন-আমেরিকা ট্যারিফ নিয়ে আলোচনা করলেও অনেক প্রশ্নের উত্তর এখনো অজানা। অনেক বিষয়েই এখনো চিন-আমেরিকা ঐক্যমতে পৌঁছাতে পারে নাই।

স্বাভাবিকভাবেই চিন-আমেরিকার সাথে কম বেশী প্রায় সব দেশই জড়িত, যেকারনে চিন-আমেরিকার পাশাপাশি সকল দেশই অর্থনৈতিক ভাবে কিছুটা চাপে আছে।

গোল্ড

সাম্প্রতিক সময়ে ফেডারেল রিজার্ভ সিগন্যাল দিয়েছে তারা জুলাই আমসে রেট কাট করতে পারে। যদিও এটা আজকের FOMC তেই ক্লিয়ার হয়ে যাবে। নতুবা এই সপ্তাহে CPI রিপোর্ট রিলিজ হয়েই বুঝা যাবে।

যেহুতু ফেড রেট কাট করবে এতে গোল্ড একটা ডীমান্ড ক্রিয়েট করে ফেলেছে ডলারের বিপরীতে।

গত FOMC এর আগে, গোল্ড ছিলো ক্রিটিক্যাল রেসিস্টেন্স এরিয়া ১৩৭৫ এর নিচে। কিন্তু ফেডের ডোভিশ স্টেন্স, ট্যারিফ নিয়ে ফাইনাল কিছু সারাহা না হওয়া , সবকিছু মিলিয়ে গোল্ড এখন ক্রিটিক্যাল রেসিস্টেন্স এরিয়া ব্রেক আউট করে উপরে উঠে গেছে।

নিচের চার্টটা দেখুন।

গোল্ড

আমরা চার্টে যদি দেখি ভালো করে বুঝতে পারবো, গত  FOMC তে গোল্ড ছিলো ১৩৭০ এর নিচে। তখন যে ইস্যুগুলি ছিলো এখনো কমবেশী সে ইস্যুগুলিই আছে। খুব একটা পরিবর্তন আসে নাই। শুধুমাত্র আমেরিকা চিনের উপর নতুন করে আর ট্যারিফ দিচ্ছে না, কিন্তু এমন না যে ট্যারিফ ইস্যু বাতিল হয়ে গেছে।

কথা ছিলো ডাটা খারাপা সলে রেট কাট হবে, আর এখন অনেক ডাটাই আমরা দেখতেছি খারাপ এসেছে অলরেডি। যদি না বন্ড এবং স্টক মার্কেট হুটহাট বড়সড়ভাবে শক্তিশালী হচ্ছে, ততক্ষণ গোল্ড আবার উঠে যাওয়ার চান্স প্রবল।

কয়েক দিন আগেই আমেরিকাসহ সারা বিশ্বের পঅনেক দেশই বন্ড হিউজ ড্রপ করেছে। বড় বড় কয়েকটা দেশের বণ্ড তো নেগেটিভেই চলে এসেছিলো। যদিও এই সপ্তাহের শুরু থেকেই বন্ড মার্কেট কিছুটা ঘুরে দাঁড়িয়েছে যেকারনে গোল্ড ও ১৪৩৮ হাই থেকে বেশ খানিকটা ড্রপ করেছে।

মুলত জি-২০ মিটিং এ চিনের উপর আপাতত নতুন করে ট্যারিফ দিচ্ছে না এই নিউজের পর মুলত বন্ড মার্কেট আবার ঘুরে দাঁড়ায় এবং গোল্ড ড্রপ করে।

এমত অবস্থায় আমেরিকা যদি নতুন করে চিনের উপর ট্যারিফ বসায় তাহলে আবার সেফ হেভেন হিসেবে গোল্ড বাই মোডে ঢুকে যেতে পারে।

বন্ড

একটা দেশ অর্থনৈতিক মন্দায় পরছে কিনা, পরার চান্স কতটুকু এটা সহজেই বুঝা যায় তার বন্ড রেট দেখে। নরমালি বন্ড রেট যদি ব্যাংক রেটের নিচে নেমে আসে সেক্ষেত্রে ধরে নেওয়া হয় ইকোনোমি খুব দ্রুতই ক্রাইসিসে পরতে যাচ্ছে।

আমরা যদিও বাংলাদেশী ট্রেডাররা বন্ড ট্রেড করি না, তারপরও আমাদের বণ্ড সম্পর্কে জানা উচিৎ। কারন বন্ডের মুভ দেখে একটা দেশের ইকনোমিক্যাল কন্ডিশন বুঝা যায়। আর বন্ড হলো সেফ ইনকাম লাইক ব্যাংক রেটের মত।

এটা ইকুইটি অন্য মার্কেটে রমত ঝুকিপুর্ন না। আর আপনি যে রেটে বন্ড কিনবেন, বন্ড রেট যতই ড্রপ করুন যে মেয়াদী কিনেছে সেই মেয়াদ পর্যন্ত সেই কুপন রেট আপনি পেয়ে যাবেন। ফান্ড ম্যানেজারেরা তাদের পোর্টফোলিওর ৫০% রাখে শুধু বন্ড। কারন এতে কোন রিস্ক নাই।

JPY

জাপানীজ ইয়েন ট্রেডিশনাল সেফ হেভেন কারেন্সি। নেগেটিভ ইন্টারেস্ট রেট। এবং ব্যাংক অব জাপান অলয়েজ চায় কারেন্সি ফ্লো কম রাখতে ইকোনোমিতে। জাপানের জাপান বিশ্বের সবচেয়ে বড় ঋণদাতা দেশ, এবং তাদের সবচেয়ে কম ঋন , পলিটিক্যাল কোন সমস্যা নাই। যেকারনে তাদের অর্থনৈতিক অবস্থাও স্ট্যাবল এবং JPY কে বলা হয় সেফ হেভেন।

শুধুমাত্র একারনে ইনভেস্টর এবং স্পেকুলেটুরা JPY ফ্লো বাড়াইতে ভয় পায়। কোন ধরনের অনিশ্চয়তা বা ক্রাইসিস ক্রিয়েট হলেই JPY শক্তিশালী হয়ে যায়। তবে সেক্ষেত্রে সবচেয়ে বেশী প্রভাব পরে AUD/JPY তে। USD/JPY তে একটু কম প্রভাব পরে কারন USD নিজেও সেফ হেভেন। যদিও ট্রেডিশনাল সেফ হেভেন না। জাপান যেহুতু রপ্তানি নির্ভর দেশ সেকারনে শক্তিশালী JPY তাদের ইকোনোমির জন্য খারাপ। যখনই JPY শক্তিশালী হয়ে যাবে মাথায় রাখবেন যেকোন সময় ব্যাংক অব জাপান ইন্টারভেন করে JPY কে দুর্বল করে দিবে রপ্তানি ঠিক রাখতে।  

চিন-আমেরিকা ট্যারিফ নিয়ে সবচেয়ে বেশী প্রভাব পরবে AUD/JPY তেই। কারন অস্ট্রেলিয়ার ইকোনোমির ৩০% নির্ভর করে চিনের বিজনেসের উপর। সো নেক্সট টাইম চিন-আমেরিকা নিয়ে নেগেটিভ কোন নিউজ আসলে আমাদের উচিৎ AUD/JPY সেলে থাকা। এবং ভালো আসলে AUD/JPY বাই মোডে থাকা।

CHF

আরেকতা সেফ হেভেন কারেন্সি হলো CHF. যে পলিটিল্যাক কারনে JPY শক্তিশালী হয় সেই একই ইস্যুতে CHF ও শক্তিশালী হয়। বিশ্বের সবচেয়ে লিকুইড মানির দেশ হলো সুইজারল্যান্ড। বিশ্বের বিভিন্ন দেশের মানুশ সুইস ন্যাশনাল ব্যাংক এ অর্থ জমা রাখে তাদের মানি লন্ডারিং পলিসি, অর্থনৈতিক স্ট্যাবিলিটি এবং পলিটিক্যাল স্ট্যাবিলিটির কারনে। CHF কে দুর্বল রাখতে SNB ব্যাংক রেট পর্যন্ত নেগেটুভ করে রাখছে। এবং SNB কখনোই চায় না CHF শক্তিশালী থাকুক এবং ব্যাংক অব জাপানের মত তারাও মানি ফ্লো বাড়ায় না।

সুইজারল্যান্ড যেহুতু রপ্তানি নির্ভর দেশ সেকারনে শক্তিশালী CHF তাদের ইকোনোমির জন্য খারাপ। যখনই CHF শক্তিশালী হয়ে যাবে মাথায় রাখবেন যেকোন সময় SNB ইন্টারভেন করে CHF কে দুর্বল করে দিবে রপ্তানি ঠিক রাখতে। 

ডলার ইনডেক্সকে ব্যাবহার করুন আপনার গাইড লাইন হিসেবে।

সারা বিশ্বের সবচেয়ে বড় এবং শক্তিশালী সেন্ট্রাল ব্যাংক হলো ফেডারেল রিজার্ভ। এবং ডলার হলো মোস্ট ট্রেডেড কারেন্সি। সারাবিশ্বের ৭০% ট্রানজেকশন হয় ডলারের উপর বেইজ করে। সো ডলার ইনডেক্সের উপর নির্ভর করে অনেক কিছু, অনেক কারেন্সির একচেঞ্জ রেট। ডলার ইনডেক্স এনালাইসিস করে আমরা মেজর বেশ কয়েকটা কারেন্সির মুভমেন্ট বুঝতে পারবো। স্পেশালী EUR/USD পেয়ারটার সঠিক মুভমেন্ট আমরা ধরতে পারবো। কারন ডোলার ইনডেক্স ৫৭.৬০% মুভ করে ইউরোর উপর বেইজ করে। ফান্ডামেন্টাল এনালাইসিস করতে পারলে ভালো ডলার ইনডেক্স, না হলেও এটলিস্ট ডলার ইনডেক্স টেকনিক্যাল এনালাইসিস করেও EUR/USD এর মুভমেন্ট বুঝা যায়।

নিচের চিত্রটা দেখুন কোন কারেন্সি কর পারসেন্ট নির্ভর করে ডোলার ইনডেক্সের উপর?

ডলার ইনডেক্স সবচেয়ে বড় ডাইরেকশন যেকোন ডলার রিলেটেড পেয়ারে।

ডলার কোনদিকে মুভ করবে না করবে তার অর্ধেকই নির্ভর করে ডলার ইনডেক্সের উপর। সো কিছু জিনিস আমাদের মাথায় রাখা উচিৎ।

• যদি USD হয় বেইজ কারেন্সি (USD/xxx), তাহলে ডলার ইনডেক্স দুর্বল হওয়ার সাথে সাথে সে পেয়ারটিও ড্রপ করবে। ডলার ইনডেক্স শক্তিশালী হওয়ার পাশাপাশি সে পেয়ারটিও শক্তিশালী হবে। অর্থাৎ একই ডাইরেকশনে চলবে। আবারো বলি স্পেশালী EUR/USD কারন এই পেয়ারের ৫৭.৬০% মুভ হয় ডলার ইনডেক্সের উপর বেইজ করে।

•যদি USD হয় কুইটো কারেন্সি (xxx/USD, তাহলে তাহলে সে পেয়ারটি বিপরীতমুখী ডাইরেকশনে চলবে।

এবার নিচের চিত্রটা দেখেন।

ডলার ইনডেক্সের দিকে তাকালে আপনি সহজেই বুঝবেন মার্কেটে কি চলতেছে। উপরে যে চিত্রটা দেওয়া আছে সেটার নাম স্মাইল থিওরি। উপরের চিত্রে ডলারের ৩ ধরনের অবস্থান দেখানো হয়েছে। চিত্রটা ভালোভাবে লক্ষ করেন, যখনগ্লোবাল ইকোনোমি ক্রাইসিসে পরে তখন USD শক্তিশালী হয়। USD এর সাথে সেফ হেভেন কারেন্সিগুলিও শক্তিশালী হয় যেমন গোল্ড, JPY এবং CHF। এমত অবস্থায় ডলার নিজেও ট্রেডিশনাল সেফ হেভেন হিসেবে কাজ করে।

অন্যদিকে, ফেডের ডোভিশ কমেন্টশ এর কারনে যখন ডলার দুর্বল হয় তখন সকল মেজর পেয়ারের বিপরীতেই ডলার দুর্বল হয়। কয়েক দিন আগেই ১ম সিচুয়েশন গেছে মার্কেটের। গ্লোবাল ইকোনোমিক প্রবৃদ্ধি ড্রপ করেছিলো সকল মেজর কারেন্সিই কিন্তু দুর্বল হয়েছিলো JPY, CHF, USD এবং গোল্ডের বিপরীতে।

আবার গত FOMC তে ফেড ছিলো ডোভিশ , যেহুতু খুব দ্রুতই রেট কাট করবে।  এজ এ রেজাল্ট ডলারের ভালো রিপোর্টগুলিও কিন্তু ডলারকে দুর্বল করে দিচ্ছে। লাস্ট NFP ভালো আসলো,  সিপিআই, পিপিআই ভালো আসলো তবুও কিন্তু ডলার দুর্বলই হচ্ছে সকল মেজর পায়েরের বিপরীতে।

আর ৩ নাম্বার সিচুয়েশন হলো যখন গ্লোবাল ইকোনোমির সাথে আমেরিকার ইকোনোমিও কলাপ্স করে তখন সারা বিশ্বই অর্থনৈতিক মন্দায় পরে। যদিও এটা ২০০৭/২০০৮ এর পর এখনো ঘটে নাই। আমেরিকার রিপোর্টগুলি যদি খারাপ আসতো তাহলে এটা ঘোতে যেতে পারতো। ট্যারিফের কারনে ঘটতেও পারে। এমত অবস্থায় স্পেশালী কমোডিটি এবং JPY, CHF শক্তিশালী থাকবে আর সকল কারেন্সিই দুর্বল হয়ে যাবে।

সো আপনি যদি ডলার ইনডেক্স এনালাইসিস শিখতে পারেন এবং বুঝতে পারেন আপনার ট্রেডে আলাদা একটা সুবিধা পাবেন, এবং ভালো প্রফিট ঘরে তুলতে পারবেন ইনশা আল্লাহ্‌।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here