• ব্রেক্সিটের ঝামেলার মাঝেও ইংল্যান্ডের ইকোনোমিক ডাটাগুলি বেশ  ভালো আসতেছে।
  • গত সপ্তাহে ডলারের পজিটিভ ডাটাগুলি তেমন ভাবে প্রভাবিত করতে পারে নাই পাউন্ড কে।
  • আগামী সপ্তাহে ১.২২০০ থেকে ১.২২৫০ এরিয়া টেস্ট করে ফেলতে পারে।

GBP/USD গত সপ্তাহের শুরুর দিকে কিছুটা দুর্বল থাকলেও শেষের দুই দিন বেশ ভালোই শক্তিশালী হয়েছে ডলারের বিপরীতে, ইভেন ডলারের ম্যাক্রো-ইকোনোমিক রিপোর্টগুলি ভালো থাকা সত্বেও। ব্রেক্সিটের মত নেগেটিভ ইস্যু না থাকলে হয়তো আরো শক্তিশালী হতে পারতো GBP.

ইংল্যান্ডের সাম্প্রতিক রিপোর্টগুলি যদি আমরা পর্যালোচনা করি তাহলে দেখা যাবে, এমপ্লয়মেন্ট রিপোর্টগুলি বেশ ভালো অবস্থানে আছে পাউন্ডের। বেকার সমস্যা আগে থেকে কমে হয়েছে ৩.৯%, আর্নিং বোনাস সহ বেড়ে হয়েছে ৩.৯% এই প্রান্তিকে। মুদ্রাস্ফিতি ১.৯% থেকে বেড়ে হয়েছে ২.১%। রিটেল সেলস বেরে হয়েছে ০.২% (মান্থলি), ইয়ারলি বেসিসে হয়েছে ৩.৩%। ম্যাক্রো ইকোনোমিক্যালি বেশ ভালো অবস্থানেই আছে বলতে হবে পাউন্ড। যদিও সেভাবে তেমন পজিটিভ প্রভাব পরে নাই পাউন্ডের উপর।

নো-ডিল ব্রেক্সিট হলে ব্যাংক অব ইংল্যান্ডের রেট কাট করার কথা ছিলো, এমন রিপোর্টে হয়তো ব্যাংক অব ইংল্যান্ডকে রেট কাট থেকে আরো একধাপ দূরে রাখবে। তবে ইস্যুটা যেহুতু ব্রেক্সিট, কি হবে না হবে সেটা সময়ই বলে দিবে।

ব্রেক্সিট নিয়ে এখনো ধুয়াসা আছে। গত সপ্তাহে ব্রিটেনের প্রধানমন্ত্রী বরিশ জনশন টুইটের মাধ্যমে জানিয়েছিলো “ আমরা গণতন্ত্রে বিশ্বাস ফিরিয়ে আনতা চাই একই সাথে ৩১শে অক্টোবর ইউরোপিয়ান ইউনিয়ন থেকে বের হয়ে যাবো”। এর আগেও বরিশ জনশন জনাইয়েছে ডিল হোক আর না হোক ৩১শে অক্টোবর ইউরোপিয়ান থেকে ইংল্যান্ড বের হয়ে যাবে।

অন্যদিকে বিরোধীদল নো-কনফিডেবস ভোটের জন্য চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে বরিশ জনসনের উপর। ব্রেক্সিটের আগেই নতুন নির্বাচনের জন্যও চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। একই সাথে বিরোধীদল নো-ডীল ব্রেক্সিটের বিপক্ষেও এখনো। সুপ্রিম কোর্টে এর শুনানি হবে আগামী ৬ই সেপ্টেম্বর।

গত সপ্তাহের শুক্রবার বিরোধীদলের প্রধান জেরোমি করবাইন স্কটিশ পার্টির সাথে কথা বলেছে। কিভাবে একসাথে কাজ করলে নো-ডিল ব্রেক্সিট আটকে দেওয়া যায়। একদিন দিয়ে পার্লামেন্ট ও চায় না নো-ডিল ব্রেক্সিট হোক। এখন বরিশ জনশন স্পেশাল পাওয়ারের বলেই নো-ডিল ব্রেক্সিট করে ফেলে কিনা সেটাই দেখার বিষয়। প্রাইম মিনিস্টার চাইলে এটা পারে, কিন্তু অনেকগুলি ঝামেলার মধ্য দিয়ে যেতে হবে বরিশ জনসনকে। এটা সামাল দিতে পারবে কিনা বরিশ জনশন এটাই বিষয় এখন।

আগামী সপ্তাহে পাউন্ডের তেমন মার্কেট মুভার ডাটা নাই। তারমানে ব্রেক্সিট রিলেটেড নিউজগুলির হেডলাইনের উপর মার্কেট অনেকটা নির্ভর করবে আগামী সপ্তাহে (আমরা নিয়মিত হেড লাইন দিয়ে যাচ্ছি সাইটে, অলয়েজ টিউন করতে থাকুন), আর ডলারের রিপোর্টের উপর।

ডলারের আগামী সপ্তাহে FOMC এবং জ্যাকশন হোল সিম্পোজিয়াম দুইটা বড় বড় ইভেন্ট আছে। এই দুইটা রিপোর্ট থেকে বুঝা যাবে তারা আমেরিকান ইকোনোমিক প্রজেকশন নিয়ে ভাবছে, রেট নিয়ে কি ভাবপছে, অভারওল ইকোনোমিক কন্ডিশন সম্পর্কে জানা যাবে। লং টার্মে ডলারের একটা ক্লিয়ার ট্রেন্ড বুঝা যাবে।

GBP/USD টেকনিক্যাল এনালাইসিস  

বর্তমান রেট থেকে মেজর সাপোর্ট আছে ১.২১০০ এরিয়াতে। ব্রেক্সিট রিলেটেড আবার নতুন করে কোন খারাপ নিউজ না আসলে তাহলে হয়তো ১.২১০০ নিচে আগামী সপ্তাহে FOMC এর আগে আসবে না। যদি ১.২১০০ এরিয়ার নিচে স্ট্যাবল হয় তাহলে নেক্সট টার্গেট হবে আবার ১.২০১৪/১.২০৩০ এরিয়া পর্যন্ত।

অন্যদিকে, বর্তমান রেট থেকে রেসিস্টেন্স আছে ১.২১৭৫ এরিয়াতে, অর্থাৎ গত সপ্তাহের হাই। যপদ ১.২১৭৫ এরিয়া ব্রেক আউট করতে পারে তাহলে নেক্সট টার্গেট ১.২২০৫ এরিয়া পর্যন্ত। এবং ফানালি যদি ১.২২০৫ এরিয়া ব্রেক আউট হয় সেক্ষেত্রে মার্কেট ১.২২৫০ এরিয়া পর্যন্ত টেস্ট করতে পারে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here