গত সপ্তাহে ফেড রেট কাট করলেও, স্টেটমেন্ট ছিলো হকিশ।  

আমেরিকা আনুষ্ঠানিকভাবে রাশিয়ার সাথে পারমাণবিক চুক্তি থেকে সরে এসেছে এবং নতুন ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষার প্রস্তুতি নিচ্ছে।

ট্র্যাম্প আবারো চিনের উপর ৩০০ বিলিয়ন ডলারের ট্যারিফ দিয়েছে।  

২য় প্রান্তিকেও ইউরোজোনের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি কমেছে  ১ম প্রান্তিকের চেয়ে।

 ECB আবারো ইউরোজোনের ইকোনোমিক প্রজেকশন গ্রোথ কমিয়েছে।

ইরান হরমুজ প্রণালিতে আবারো বিদেশী জাহাজ আটক করেছে আজকে।

EUR/USD আবারো হয়তো ১.১০০০ এরিয়া থেকে বাউন্স করবে, কিন্তু লং টার্মে এখনো বাই মোডে যাওয়ার সম্ভবনা তৈরি করতে পারে নাই।  

বর্তমান রেট থেকে EUR/USD এর ক্রিটিক্যাল সাইকোলজিক্যাল লেভেল আছে ১.১০০০ এরিয়াতে। এই আগস্টে হয়তো মার্কেট আবার ১.১০০০ এরিয়া টেস্ট করবে এবং বাউন্স ও করবে। কিন্তু লং টার্মে এখনো মার্কেট কন্ডিশন দেখে মনে হচ্ছে না, বুলিশ মোডে যেতে পারবে EUR/USD.  

ট্র্যাম্প প্রশাশন একটা বিপজ্জনক খেলায় মেতে উঠছে। একদিকে চিনের উপর আবার ট্যারিফ বসিয়েছে ৩০০ বিলিয়ন ডলার। অন্যদিকে রাশিয়ার সাথে দীর্ঘ দিনের পারমাণবিক চুক্তি থেকে সরে এসে নতুন ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষার প্রস্তুতি নিচ্ছে।

ইরানের উপরোধ বাড়াচ্ছে একই সাথে ভেনেজুয়েলাকে বিশ্ব থেকে আলাদা করে ফেলার হুমকি দিচ্ছে। একের পর এক এমন সিদ্ধান্ত নিচ্ছে, যেগুলি মার্কেটকে অস্থিতিশীল কর দেওয়ার জন্য এনাফ।  

এদিক দিয়ে ফেড রেট কাট করলেও, স্টেটমেন্ট দিচ্ছে হকিশ। এটা নিয়েও ট্র্যাম্প বড়ই বেজার ফেড প্রেসিডেন্টের উপর। ট্যারিফ ইস্যুতে আমেরিকার স্টক এবং বন্ড উভই ড্রপ করেছে বেশ।

যেকারনে মনে হচ্ছে না আপাতত ফেড এই বছর আর রেট কাট করতে পারবে। আর ফেড এই বছর আরো দুই বার রেট কাট না করতে পারলে, আমেরিকার অর্থনৈতিক মন্দার কবলে পরাটা একদমই সহজ।

কারণ তারা এখনো ২% ইন্টারেস্ট দিচ্ছে, যেখানে অন্য উন্নত দেশুগুলির ব্যাংক রেট ০, না হয় নেগেটিভ। অন্য দেশের সেন্ট্রাল ব্যাংকগুলি শুধু ডলার রিজার্ভে রাখলেও ২% ইন্টারেস্ট পাচ্ছে।

অন্যদিকে দেখা যাচ্ছে, আমেরিকার বন্ড ড্রপ করতেছে অর্থাৎ হয় বিনিয়োগের নতুন যায়গা ক্রিয়েট করত পারে নাই আমেরিকা, নয়তো ইনভেস্টরা ভরসা পাচ্ছে না আমেরিকার অর্থনীতির উপর। নইলে বন্ড ড্রপ করতো না এভাবে।

তারমানে শুধু শুধু বাড়তি সুধ দিতে গিয়েই রেসিশনে পরার একটা ঝুকিতে পরবে আমেরিকা, যদি আরো মিনিমাম ২ বার রেট কাট না করে। অথবা স্টক-বন্ড দুইটাই আবার গেইন না করে।

এটাও ট্রাম্পকে বিব্রতকর অবস্থায় ফেলবে যদি স্টক এবং বন্ড এভাবে ড্রপ করতে থাকে। আর ব্যাংক রেট না কমাইলে, ট্যারিফ ট্যারিফ খেলা বন্ধ না করলে, এবং যুদ্ধের দামামা না থামাইলে স্টক এবং বন্ড ড্রপ করবেই। একই সাথে সেফ হেভেন গোল্ড, সিলভার, জাপানীজ ইয়েন, সুইস ফ্র্যাঙ্ক এগুলির ডিমান্ড ক্রিয়েট ও করবেই।  

ইনভেস্টররা দুই টাকা লাভ কম চায়, কিন্তু মুলধন হারাতে চায় না। সো ট্রাম্পের এই খেলা সাপ হয়ে নিজের যায়গাতেই ফিরে আসে কিনা এটাই দেখার বিষয়

আমেরিকা এবং ইউরোজোনের বর্তমান ইকোনোমিক অবস্থা

গত শুক্রবার আমেরিকার জব মার্কেট রিপোর্ট রিলিজ হয়েছিলো। জুলাই মাসে নতুন জব এড হয়েছে ১ লাখ ৬৪ হাজার। আন এমপ্লয়মেন্ট রেট আছে ৩.৭%। আর্নিং ০.২% থেকে বেড়ে হয়েছে ০.৩% মান্থলি বেসিসে। আর ইয়ারলি বেশিসে আর্নিং হয়েছে ৩.২%।  

কিন্তু তারপরও ডলার দুর্বল হয়েছে শুধুমাত্র ট্রেড ওয়ারের কারনে, বন্ড ড্রপ করায় ইনভেস্ট্ররদের মনে ভয়ের আশংকা হয়েছে আমেরিকা অর্থনৈতিক মন্দার কবলে পরতে যাচ্ছে। এই ভয়ে স্টক ও বন্ড হিউজ ড্রপ করেছে। ISM ম্যানুফ্যাকচারিং ড্রপ করে হয়েছে ৫১.২ যেটা ২০১৮ সালের সেপ্টেম্বর মাসের মধ্যে সর্বনিম্ন।  

অন্যদিকে, ইউরোপের ইকোনিমিক গ্রোথ ২য় প্রান্তিকে প্রত্যাশিত আসলেও গ্রোথ বাড়ে নাই, উলটা কমেছে ১ম প্রান্তিকের চেয়ে। ১ম প্রান্তিকে আশা জাগিয়ে ০.৪% আসলেও ২য় প্রান্তিকে প্রত্যাশা করেছিলো ০.২% সেই ০.২% ওই আসছে।

জার্মানির ইনফ্ল্যাশন ছিলো ১.৫% ১ম প্রান্তিকে, সেখানে ২য় প্রান্তিকে হয়েছে ১.১৩% যদিও ফোরকাস্ট ছিলো ১.১%। অর্থাৎ ফোরকাস্টের চেয়ে ভালো কিন্তু আগের চেয়ে খারাপ।  

জার্মানির মার্কেট ম্যানুফ্যাকচারিং রিপোর্ট ড্রপ করে হয়েছে ৪৩.২, যেটা গত ৭ বছরের মাঝে সর্বনিম্ন। এবং ইউরোজোনের ম্যানুফ্যাকচারিং রিপোর্ট ৪৮.০০ থেকে ড্রপ করে হয়েছে ৪৭.৭।

যেটা থেকে স্পষ্ট বুঝা যাচ্ছে ইউরোজোনের উৎপাদন খাত ভালো অবস্থানে নেই। উৎপাদন খাত ভালো না থাকলে এর নেগেটিভ প্রভাব প্রায় সকল সেক্টরেই পরবে কম বেশী। আর এর পিছনেও দায়ী ট্রাম্পের ট্যারিফ তথা ট্রেড ওয়ার ইস্যু।

আগামী সপ্তাহে মার্কেট মুভার ডাটা

আগামী সপ্তাহে আমেরিকার সার্ভিস পিম এবং কম্পোজিট পিএমআই রিপোর্ট রিলিজ হবে। দুইটা রিপোর্টই সমান সমান ফোরকাস্ট করেছে আগের মত।

সোমবার রাত ৮.০০ মিনিটে ISM নন ম্যানুফ্যাকচারিং পিএমআই রিপোর্ট রিলিজ হবে। PMI ৫৫.১ থেকে বাড়িয়ে ফোরকাস্ট করেছে ৫৫.৫। আর মঙ্গলবার বুলার্ডের স্পীচ ছাড়া আর তেমন কোন মার্কেট মুভার ডাটা নেই ডলারের।  তবে ট্র্যাম্প চিনের উপর ট্যারিফ নিয়ে স্পীচ দিবে। যদিও টাইমতা এখনো ফিক্সড না।  

আর ইউরোর বেশ কয়েকটা মার্কেট মুভার ডাটা রিলিজের আছে তার বেশীরভাগই আগের চেয়ে কম প্রত্যাশা করেছে না হয় সমান সমান।

যদিও এগুলির কোনটাই আগামী সপ্তাহের মেইন ইস্যু না। ট্র্যাম্প ট্যারিফ নিয়ে যে স্পীচ দিবে সেটাই মেইন ইস্যু। যদি জনাব ট্র্যাম্প ট্যারিফ ক্যারি করে চিনের উপর এবং আরো নতুন ট্যারিফের ঘোষণা দেয় তাহলে ডলারের কপালে দুঃখ আছে। সাথে কপাল পুরবে AUD এবং NZD এর ও।

হয়তো ফাকতালে ইউরো হালকজা পাতলা সুবিধা নিবে। কিন্তু JPY, CHF, GOLD সুবিধা নিবে সবচেয়ে বেশী।

EUR/USD টেকনিক্যাল এনালাইসিস

বর্তমান রেট থেকে সাপোর্ট আছে ১.১০২৫ এরিয়াতে, আগের সপ্তাহের লো রেট। ১.১০২৫ এরিয়া ব্রেক আউট হলে নেক্সট টার্গেট ক্রিটিক্ল্যাল সাপোর্ট ১.১০০০ এরিয়া। ১.১০০০ এরিয়া ব্রেক আউট অনেক কঠিন। ১.১০০০ এরিয়া ব্রেক আউট হলে মার্কেট লং টার্মে সেলে চলে যাবে। যেকারনে ১.১০০০ এরিয়া থেকে মার্কেট আরেকবার বাউন্স করতে পারে। যদি আগামী সপ্তাহে ইউরোজোনের রিপোর্ট খারাপ আসে। আর ১.১০০০ ব্রেক আউট হলে নেক্সট টার্গেট ১.০৯২০ এরিয়া এবং ফাইনালি ১.০৮৫০ আরেক ক্রিটিক্যাল সাপোর্ট।

অন্যদিকে, বর্তমান রেট থেকে মেজর রেসিস্টেন্স আছে ১.১১৮০ এরিয়াতে। ১.১১৮০ এরিয়া ব্রেক আউট হলে নেক্সট টার্গেট ১.১২৯০ এরিয়াতে। এবং ফাইনালি টার্গেট হতে পারে বড়জোর ১.১৩৫০ এরিয়া পর্যন্ত। এর বেশী যাওয়ার কোন সুযোগ আমি দেখি না। ১.১২৯০ এরিয়া ব্রেক আউটই অনেক কঠিন হয়ে যাবে EUR/USD এর জন্য।

আফটার অল ইউরোজোনের গাড়ী শিল্পের উপর ও ৫% ট্যাক্স দিয়েছে মিস্টার ট্র্যাম্প কাক্কু। ফ্রান্সের মদের উপর ট্যারিফের কথা চলতেছে, যেহুতু ফ্রান্স বড় বড় টেক কোপানিরগুলির উপর ট্যাক্স বসাইছে।  

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here