EUR/USD ফান্ডামেন্টাল এনালাইসিস

ট্যারিফ, পলিটিক্যাল এবং ব্রেক্সিট নিয়ে অনিশ্চয়তা ফরেক্স এবং ইকুইটি মার্কেটের উপর চেপে বসেছে। আমেরিকাতো চিনের চিনের উপর ট্যারিফ দিয়েছে ৩ সপ্তাহ আগেই, এর মধ্যে গত শুক্রবার নতুন করে ট্যারিফ দিয়েছে মেক্সিকোর উপর। আগামী ১০ই জুন থেকে ৫% ট্যারিফ কার্যকর হবে মেক্সিকোর উপর, এবং এই ট্যারিফ বেড়ে ১০% ও হতে পারে।

যে কারনে বিশ্বব্যাপি ইকোনোমিক গ্রথ কমে যাওয়া, প্রাইজ ইনফ্ল্যাশন বেড়ে যাওয়া ঘটনা ঘটতে যাচ্ছে এটা অনেকটাই নিশ্চিত। অর্থাৎ বিশ্ব আরেকটা অর্থনৈতিক মন্দার কবলে পরতে যাচ্ছে। যেকারনে সেফ হেভেন হিসেবে JPY, CHF এবং GOLD শক্তিশালী হচ্ছে।  

ট্যারিফ এর পর থেকে মে মাসেই আমেরিকার স্টক মার্কেট ড্রপ করেছে প্রায় ৬.৫% যেটা গত ২০১৮ সালের ডিসেম্বরের মাঝে সর্বচ্য পতন। ডো-জোনস গত ৮ বছরের মাঝে সর্বচ্য পরিমাণ ড্রপ করেছে মে মাসে।

আমেরিকার স্টক মার্কেটের এই পতন নিশ্চিতভাবেই ইন্ডিকেট করে এই ট্রেড ওয়ার আমেরিকার উপরেও সমানভাবে আঘাত হানতেছে, এটলিস্ট তাদের স্টক মার্কেটের পতন থেকে এটাই বুঝা যায়। গত সপ্তাহে ডলার প্রায় সবগুলি মেজর কারেন্সির বিপরীতে দুর্বল হয়ে মার্কেট ক্লোজ হয়েছে। এবং সেফ হেভেন কারেনশিগুলি সব কারেন্সির বিপরীতে শক্তিশালী হয়েছে।  

গত শুক্রবার জার্মানির চ্যান্সেলর মরকেল আমেরিকার হার্ভাড উইনিভার্সিটিতে একটা স্পিচ দিয়েছে, সেখানে ট্রাম্পের নাম উল্লেখ না করেই বলেছে সংরক্ষনবাদনীতি ট্রেড কনফ্লিক্ট আরো বাড়াবে এবং সব দেশের ইকনোমিক ভিত্তি দুর্বল করে দিবে।

ইউরোপের মুল প্রান হলো জার্মানি, ইউরোর উঠা-নামাটাও তাই অনেকটা জার্মানির ইকোনমিক্যাল কন্ডীশনের উপর নির্ভর করে। গত সপ্তাহে জার্মানির সবগুলি রিপোর্টই কম-বেশী ড্রপ করেছে। রিটেল সেলস -২% ড্রপ করেছে। ইনফ্ল্যাশন ড্রপ করেছে মে মাসে। আন এমপ্লয়মেন্ট গত ৪ বছরের মাঝে সর্বচ্য পর্‍্যায়ে পৌঁছেছে।

আগামী সপ্তাহে ECB এর মনিটারি পলিসি মিটিং আছে, সেখানে মুল বিষয় থকবে TLTRO প্রোগাম নিয়ে এবং কি পরিমাণ মানি স্টিমুলেট দিবে ইকোনমিতে এটাই মুল ফ্যাক্টর হবে। এবং ইউরোজোনের ইকোনোমিক প্রজেকশনটাও অনেক গুরুত্বপুর্ন। এক কথায় বলতে গেলে ইউরো ফান্ডামেন্টালি ট্রাপে আছে, বাট ডলার নিজেও কিন্তু ট্র্যাপে পরতেছে।

ট্রাম্প বলা চলে পুরাই গ্যাম্বলিং করতেছে আমেরিকার অর্থনিতি নিয়ে। ইনকেজ কোন কারনে বুমেরাং হয়ে গেলে আমেরিকার ও সর্বনাশ হয়ে যেতে পারে। এই আমেরিকার একছত্র আধিপত্য আর থাকবে বলে মনে হয় না। একের পর এক দেশের উপর ট্যারিফ দিয়ে যেমন বিষিয়ে তুলতেছে সবাইকে, তেমনি নিজের দেশকেও বিপতে ফেলতে যাচ্ছে।

গত ECB এর মিটিং এ EUR/USD বেশ ভালো ড্রপ করেছিলো TLTRO এর কারনে। এইবারো TLTRO মেইন ইস্যু, সো অবশ্যই TLTRO এর নিউজটা ভালো ভাবে লক্ষ্য করতে হবে সবাইকে। যদি এইবারো TLTRO রুল আউট হয়ে যায়, ইউরোজোনের গ্রোথ এবং ইনফ্ল্যাশন ফোরকাস্ট কমিয়ে দেয় ECB এবং মানি স্টিমুলেট যদি না বাড়ায় তাহলে EUR/USD ১.১০২০/১.১০০০ এরিয়া টেস্ট করা খুবই সহজ ব্যাপার হয়ে যাবে।

অন্যদিকে,  আমেরিকার ১০ বছর মেয়াদী বন্ড গত ১০ বছরের মাঝে সর্বনিম্ন পর্যায়ে চলে এসেছে, আগামী GDP  ৩.২% থেকে ড্রপ করে হয়েছে ৩.১%, হাউজিং মার্কেট ডাটা ড্রপ করেছে। কোন ইলফ্ল্যাশন আবার বেড়েছে এবং লেবার মার্কেট এখনো শক্তিশালী আছে।

আগামী সপ্তাহে আমেরিকার লেবার মার্কেট রিপর্ট রিলিজ হবে, NFP প্রত্যাশা করেছে আগে থেকে কিন্তু আর্নিং এর প্রত্যাশা আগে থেকে বেড়েছে। আন এমপ্লয়মেন্ট আগের মতই ৩.৬% ফোরকাস্ট করে রেখছে।

বাট মার্কেটের যে বর্তমান কন্ডিশন এতে করে এই রিপর্টগুলির লং টার্ম প্রভাব থাকবে না। মুলত ট্যারিফ, ব্রেক্সিট এবং রাজনৈতিক অনিশ্চয়তা মার্কেটের মেইন ড্রাইভার হিসেবে কাজ করবে।

EUR/USD  টেকনিক্যাল এনালাইসিস

EUR/USD মার্কেট ক্লোজিং রেট ১.১১৬৮, বর্তমান রেট থেকে ইমিডিয়েট রেসিস্টেন্স আছে ১.১১৭৫ এরিয়াতে, যেটা আগের মেজর সাপোর্ট এরিয়া ছিলো। ১.১১৭৫ এরিয়া ব্রেক আউট হলে নেক্সট টার্গেট ১.১২০০ এরিয়া। ১.১২০০ এরিয়া ব্রেক আউট করা ভিষন টাফ হবে যদি না TLTRO তে ভালো কিছু আসে, ইকোনোমিক গ্রোথ এটলিস্ট না কমায় এবং ইনফ্ল্যাশন টার্গেট ও। ১.১২০০ এরিয়া ব্রেক আউট হলে লাস্ট টার্গেট ১.১২০০/১.১৩০০ এরিয়া। মার্কেট কোন অবস্থাতেই ১.১৩০০ এরিয়া ব্রেক আউট সিচুয়েশনা নাই যদি না আর্নিং এবং NFP দুইটাই একই সাথে ড্রপ করে ডলারের।

অন্যদিকে, বর্তমান রেট থেকে মেজর সাপর্ট আছে ১.১১০০ এরিয়া। ১.১১০০ এরিয়া ব্রেক আউট হলে নেক্সট টার্গেট ১.১০২০/১.১০০০।

১.১০০০ এরিয়া হলো টাফ সাপোর্ট জোক ব্রেক আউটের জন্য। সো এই রেট থেকে প্রফিট টেকিং হয়ে হলে মার্কেট আবার বাউন্স করে। সো আমি এর চেয়ে বেশী প্রত্যাশা করছি না আপাতত।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here