গত সপ্তাহটা USD বেশী ভালোই ঘুরে দাঁড়িয়েছে প্রায় সকল মেজর কারেন্সির বিপরীতেই শুধুমাত্র GBP ছাড়া। গত সপ্তাহে পাউন্ডের রিপোর্টগুলি ভালো আসায় GBP সকল কারেন্সির বিপরীতেই কম বেশী শক্তিশালী হয়েছে। গত সপ্তাহে ডলারের ইকোনোমিক রিপোর্টগুলি ভালো আসায় USD ও বেশো ভালোভাবে ঘুরে দাঁড়িয়েছে।

ডলারের রিটেল সেলস রিপোর্ট প্রায় দ্বিগুন ভালো করেছে আগে থেকে। CPI গ্রোথ ২.০০% এর কাছাকাছি চলে এসেছে সেটা ফেড চাচ্ছে। লাস্ট FOMC তে পওয়েল আমেরিকান ইকোনোমিক কন্ডিশন নিয়ে একয়াট হিন্টস দিয়েছিলো। পওয়েল বলেছিলো আমেরিকান শ্রম বাজার এখনো শক্তিশালী। গত সপ্তাহে ডলারের রিপোর্টগুলি পওয়েলের কথার সত্যতার প্রমাণ।

এত ভালো রিপোর্টের পরেও হয়তো ফেড রেট কাট করবে, শুধুমাত্র ট্রাম্পের কথা রাখতে গিয়ে। কিন্তু এতে করে দেখা যাবে রেট কাটের ফলে একটা কারেন্সিতে যে পরিমাণ বা যেমন প্রভাব পরার কথা হয়তো তেমন নেগেটিভ প্রভাব পরবে না। কারন ইকোনোমিক কন্ডিশন ভালো অবস্থানে আছে এখনো।

যদিও এখন পর্যন্ত কোন ফেড সদস্যই সরাসরি বলে নাই, তারা অমুক সময় রেট কাট করবে। ট্রাম্পের টুইটের উপর ভিত্তি করে মুলত আমি এই মন্তব্য করলাম। তবে আগামি জ্যাকশন হোল মিটিং এর সময় হয়তো রেট কাটের ব্যাপারে একটা আইডিয়া পাওয়া যাবে ফেডের পক্ষ থেকে। তবে ট্র্যাম্প যেভাবে একের পর এক ফেড চেয়ারম্যান পওয়েলকে চাপ দিয়ে যাচ্ছে, রেট কাটের জন্য। কতক্ষন পওয়েল চাপ কুলিয়ে থাকতে পারে এটাই দেখার বিষয়।

 আগামী জ্যাকশন হোল মিটিং থেকে আমরা ডলারের নতুন একটা ট্রেন্ড বুঝতে পারবো। এটলিস্ট আগামী FOMC পর্যন্ত ডলারের ট্রেন্ড নির্ধারিত হবে জ্যাকসন হোল মিটিং থেকে। আগামী শুক্রবার জ্যাকশন হোল মিটিং এ ফেড চেয়ারম্যান পওয়েল ছাড়াও আরো বেশ কয়েকজন ফেড সদস্য বক্তব্য দিবে। FOMC এর পর সবচেয়ে গুরুত্বপুর্ন মিটিং এই জ্যাকশন হোল মিটিং। আগামী সপ্তাহে যেহুতু FOMC ও আছে, তাই দুইটা দিনই ডলার খুব বেশী ভোলাতাইল থাকবে। সো স্টেটমেন্ট বুঝে ট্রেড করতে পারলে বেশ ভালো করার সুযোগ ও আছে।

আগের FOMC মিটিং এ পওয়েল রেট কাটের কথা বলেছিলো কিন্তু সেটা ছিলো ডাটা নির্ভর। এবারো যদি সেই ডাটা নির্ভর এর কথা বলে তাহলে ডলার উলটা শক্তিশালী হয়ে যাবে। কারন ডাটা তো সব প্রায় পজিটিভ, তারমানে রেট কাটের দেরি আছে। তবে সরাসরি রেট কাটের কথা বলে অর্থাৎ সেপ্টেম্বরে যদি ফেড রেট কাট করতে চায় তাহলে ডলার অইদিন দুর্বল থাকবে। স্পেশালী গোল্ড, CHF এবং JPY এর বিপরীতে বেশ ভালো দুর্বল হবে ডলার। এমনিতেই এই তিনটার বিপরীতে চাপে আছে ডলার।  

সেক্ষেত্রে গোল্ড আবারো ১৫৩৫ ব্রেক আউট করে ১৫৫০ এরিয়া টেস্ট করে ফেলতে পারে, USD/CHF ০.৯৫০০ এরিয়া টেস্ট করতে পারে এবং USD/JPY দেখা যাবে ১০৫.০০ এরিয়ার নিচে স্ট্যাবল হয়ে গেছে। তবে এখন পর্যন্ত আমেরিকার ইকোনোমিক রিপোর্ট রেট কাটের পক্ষে নাই, এটা সত্যি। বাকীটা ট্র্যাম্প আংকেলের উপর 😛

গত সপ্তাহে সবচেয়ে বাজে কারেন্সির তালিকায় ১ নাম্বারে তালিকায় আছে  EUR. গত সপ্তাহে শুরু থেকে একবারে শেষের দিন পর্যন্ত টানা ইউরো দুর্বল হইছে ডলারের বিপরীতে। ২য় প্রান্তিকে ইউরোজোনের রিপোর্টগুলি একেবারে যাচ্ছে তাই আসইতেছে। জার্মানির জিও ইকোনোমিক রিপোর্ট ২০১০ সালের মাঝে সর্বনিম্ন পর্যায়ে আছে।

আগামী সপ্তাহে ইউরোজোনের PMI রিপোর্টগুলি রিলিজ হবে। যদি PMI রিপোর্টগুলি খারাপ আসে, যেমনটা ফোরকাস্ট করে রেখেছে তাহলে EUR এর কপালে মরন ছাড়া আর কিছু অবশিষ্ট থাকবে বলে মনে হয় না। একই সাথে যদি সেপ্টেম্বরে ফেড রেট কাট না করার কথা বলে বা ডাটা ডিপেন্ডডেন্টের কথা বলে তাহলে  EUR/USD ১.১০০০ এরিয়ার নিচে স্ট্যাবল হওয়া সময়ের ব্যাপার মাত্র।

আর PMI রিপোর্টগুলি ঘুরে দাঁড়ালে একটা ভরসা আছে আবার ১.১৩৫০ এরিয়াতে টেস্ট করার  EUR/USD এর। ইউরোর জন্য এখন পর্যন্ত যেটা আশার বানী সেটা হলো জার্মান সরকার রাজস্ব প্রণোদনা দেওয়ার জন্য প্রস্তুত আছে, ইকোনোমিকে শক্তিশালী করতে যদি তারা মন্দার কবলে পরে। এই নিউজে গতকাল EUR/USD ৪০ পিপ্স আপ হয়েছিলো। এটলিস্ট এটা ইউরোর জন্য কিছুটা সাপোর্ট হিসেবে কাজ করবে। তবে কি পরিমাণ রাজস্ব প্রণোদনা দিবে সেটা এখনো বলে নাই জার্মান সরকার।   

EUR/USD টেকনিক্যাল এনালাইসিস

বর্তমান রেট থেকে মেজর সাপোর্ট আছে ইয়ারলি লো ১.১০২৫ এরিয়াতে। ১.১০২৫ এরিয়া ব্রেক আউট হলে নেক্সট টার্গেট ১.০৯৮০/৬০ এরিয়াতে। ১.০৯৬০ থেকে মার্কেট কিছুটা রিকোভারি করে উঠবে হয়তো। কিন্তু আবার ড্রপ করবে। ১.০৯৬০ এরিয়ার নিচে ব্রেক আউট হলে ফাইনাল টার্গেট আগামী সপ্তাহের জন্য ১.০৮৬০ এরিয়া পর্যন্ত।

অন্যদিকে, বর্তমান রেট থেকে মেজর রেসিস্টেন্স আছে ১.১১৬০ এরিয়াতে। ১.১১৬০ এরিয়া ব্রেক আউট হলে নেক্সট টার্গেট ১.১২২০ এরিয়া পর্যন্ত। এবং ফাইনাল টার্গেট ১.১২৫০/৯০ এরিয়া পর্যন্ত।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here