• ECB এখন পর্যন্ত নীরব, আগামী সপ্তাহে মনিটারি পলিসি শিথিলের ঘোষণা আসতে পারে।
  • ফেডের সদস্যরা মিক্সড মেসেজ দিচ্ছে ভবিষ্যৎ মনিটারি পলিসি নিয়ে।
  • EUR/USD এখনো পরে যাওয়ার ঝুকিতে রয়েছে কিছুটা।

গত ১৪ দিন ধরে EUR/USD প্রায় একটা রেঞ্জের মদ্ধেই আছে।  মার্কেট কোন দিকেই ব্রেক আউট করতে পারে নাই। ১.১১৯২ লো এবং ১.১২৮৫ হাই এই রেঞ্জের মদ্ধেই মার্কেট সীমাবদ্ধ। আবার ১.১১৮০ এরিয়াতে আছে মেজর সাপোর্ট।

এদিক দিয়ে ১.১২৮৫ ব্রেক আউট হলে সুযোগ ছিলো আপট্রেন্ড ক্যারি করার। কারন ১.১৩৫০ এরিয়ার আগে কোন ধরনের মেজর রেসিস্টেন্স ছিলো না, যদিও ১.১৩১৫ এরিয়াতে মাইনর একটা রেসিস্টেন্স আছে।

গত সপ্তাহটা ছিলো সেন্ট্রাল ব্যাংকগুলির একের পর এক স্পীচ এবং মনিটারি পলিসিতে ভরপুর। এবং ডলার শুরুই হয়েছিলো দুর্বল হওয়ার মধ্য দিয়ে। যদিও শেষ হয়েছে সপ্তাহটা শক্তিশালী হওয়ার মধ্য দিয়ে।

EUR দুর্বল হওয়ার একটা বড় কারন ছিলো ECB সদস্য ভিলেরয়, বলেছিলো ইউরোর একচেঞ্জ রেট নিয়ে ইউরোর তেমন কিছু করার নেই। মনিটারি পলিসিই সবকিছু করতে পারে না, সংরক্ষণ বাদ নীতির কারনে যে ক্ষতি হচ্ছে অর্থনিতির সেটা মনিটারি পলিসি নিয়ে রুখে দাঁড়ানোও পসিবল না বলেও ভিলেরয় যোগ করেন।

হ্যাঁ, অবশ্যই ভিলেরয়ের কথার যুক্তি আছে, পলিটিক্যাল ইস্যুতো আর মনিটারি পলিসি দিয়ে সমাধানে আনা যায় না। তবে দিন শেষে একটা কারেন্সিকে অনেকভাবেই প্রভাবিত করতে পারে সেন্ট্রাল ব্যাংক এবং তাদের মনিটারি পলিসি এটাও ঠিক। সত্যিকার অর্থেই ট্রাম্পের এই সংরক্ষণ বাদ নীতি, সবার অর্থনিতিকেই ক্ষতিগ্রস্থ করতেছে।

গত সপ্তাহের বৃহস্পতিবার ডলার দুর্বল হওয়ার কারন আমাদের জানা আছে সবার। ফেড সদস্য উইলিয়ামের ডোভিশ কমেন্টসের পরেই মুলত ডলার হিউজ দুর্বল হয়ে যায়, তার কিছু ঘন্টা পরেই ফেড অফিসিয়ালি জানায় এটা উইলিয়ামের নিজস্ব বক্তব্য ফেডের অফিসিয়ালি কোন বক্তব্য নয়, এর পরেই ডলার আবার মুলত ঘুরে দাঁড়ায়।

আবার গতকাল আমেরিকান সেশনে ফেড সদস্য বুলার্ডের স্পিচের কারনেও USD বেশ কিছুটা শক্তিশালী হয়েছে। বুলার্ড গতকাল স্পিচে বলেছে এই মাসের শেষের দিকে ২৫ বিপি রেট কাট অএ আমাদের জন্য ভালো। এই মুহুর্তে বড় ধরনের রেট কাটের দরকার নেই বলেও মন্তব্য করে বুলার্ড।

এই মাসের শেষের দিকে ফেড রেট কাট করবে এতে কোন সন্দেহ নেই। কিন্তু ২৫ বিপি রেট কাট অলরেডি প্রাইজড ইন। এই পরিমান কাট হলে ডলারের কিচ্ছুই হবে না। উলটা ডলার শক্তিশালী হলেও হতে পারে। ২৫ বিপি রেট কাটের পাশাপাশি যদি ফেড ডোভিস স্টেটমেন্ট দেয় সেক্ষেত্রেই একমাত্র ডলার দুর্বল হবে। আর আগামী সপ্তাহে ECB এর মনিটারি পলিসি আছে, সেখান থেকে আমরা বড় ধরনের একটা আইডিয়া পাবো EUR/USD এর নেক্সট গন্তব্য কোথায়।

চিন-আমেরিকার মাঝে ট্রেড টেনশন আবার মাথা চারা দিয়েছে। গত সপ্তাহের মাঝা-মাঝি সমইয়ে ট্র্যাম্প মন্তব্য করে, এশিয়ান দেশগুলির সাথে সম্পর্ক উন্নয়নে আমাদের এখনো অনেক পথ হাঁটতে হবে। এশিয়ান দেশগুলি বলতে আসলে চিন কেই বুঝিয়েছে ট্র্যাম্প। ট্রেড ওয়ারের মাঝো চিন তাদের ২য় প্রান্তিকের GDP রিপোর্ট মার্কেটের প্রত্যাশার চেয়ে ভালো যদিও এই GDP গত ২৭ বছরের মাঝে সর্বনিম্ন।

ট্র্যাম্প অনেকগুলি ব্যাপার নিয়েই অনেকের সাথে ঝামেলা পাকাই রাখছে। ইরানের সাথে যুদ্ধ লেগে যায় যায় অবস্থা। ইরান ইংল্যান্ডের তেলের ট্যাংকার সিজ করেছে। তুরুস্ক রাশিয়া থেকে S-400 কেনার কারনে তুরস্কের সাথে আমেরিকার সম্পর্ক তলানিতে গিয়ে ঠেকেছে।

ট্রেড ওয়ারের কারনে আমেরিকা ছাড়া কম-বেশী ইকোনিমিক গ্রোথই কম-বেশী ড্রপ করেছে। ভিলেরয় আরেকটা মনতব্য করেছিলো যেটা ইউরোর উপর সবচেয়ে বেশী নেগেটিভ প্রভাব পরেছিলো সেটা হলো “ তাদের হাতে যথেষ্ট অপশন নেই, ট্রেড ওয়ারের কারনে নিজেদের যে ক্ষতি হচ্ছে সেটা থেকে রক্ষা পাওয়ার”। মুলত এটা ইউরোজোনের দুর্বলতাকেই ফুটিয়ে তুলে এবং দীর্ঘ মেয়াদের ডলারের পক্ষেই মার্কেট যাওয়ার ইন্ডিকেট করে।

এখন ডলার দুর্বল হওয়ার একমাত্র উপায়, হলো হয় ফেডের ৫০ বিপি রেট কাট করতে হবে না হয় ফেড সদস্যদের একের পর এক ডোভিশ স্টেটমেন্ট দিতে হবে।

বিগত কয়েকদিনের ডাটা বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, জার্মানির জিও ইকোনোমিক রিপোর্ট ড্রপ করে হয়েছে -২৪.৫। বন্ড ইয়েল্ড রেকর্ড পরিমান ড্রপ করে নেগেটিভ লাইনে চলে এসেছে। বন্ড ইয়েল্ড একটা বড় ইন্ডিকেটর একটা দেশ অর্থনৈতিক মন্দায় পরতে যাচ্ছে কিনা সেটা বুঝার। জার্মানির জুন মাসের PPI ড্রপ করেছে ০.৪%।

ইউরোজোনের জুন মাসের ইনফ্ল্যাশন রিপোর্ট ড্রপ করেছিলো ১.৩% ( ইয়ারলি বেসিসে) এবং মান্থলি বেসিসে ১.১%। অর্থাৎ ECB এর হাতে গেইম চেঞ্জার কোন ডাটা নেই এই মাসে। আগামী মাসে TLTRO একমাত্র সাপোর্ট দিতে পারে ইউরোকে।

অন্যদিকে, আমেরিকার জুন মাসের রিটেলস সেলস ছিলো পজিটিভ। প্রোডাকশন রিপোর্টগুলি সমান সমান আছে আগের চেয়ে, যদিও ক্যাপাসিটি উইটিলাইজেশন বেশ ভালো ড্রপ করেছে আমেরিকার।  

আগামী সপ্তাহে, বেশ কয়েকটা মার্কেট মুভার ডাটা রয়েছে। ইউরোজোন এবং আমেরিকার জুলাই মাসের ম্যানুফ্যাকচারিং রিপোর্ট রিলিজ হবে। মুলত ম্যানুফ্যাকচারিং রিপোর্টগুলি ভালো আসলে ইউরোজোনের, ইউরোর জন্য বেশ ভালো একটা ক্যাটালিস্ট হবে এখান থেকে ঘুরে দাঁড়ানোর। জার্মানির IFO সার্ভিস এবং লোকাল বিজনেস কনফিডেন্স রিপোর্ট ও আছে আগামী সপ্তাহে। এই রিপোর্টগুলি ভালো আসলেও ECB এটলিস্ট রিপোর্টগুলি সামনে আনতে পারে, এবং অপটিমিস্টিক হকিশ স্টেমেন্ট দিতে পারে।

অন্যদিকে, আমেরিকার ডিউরেবল গুড অর্ডার রিপোর্ট রিলিজ হবে আগামী সপ্তাহে। এই রিপোর্ট ভালো আসলে আমেরিকার ২য় প্রান্তিকের GDP রিপোর্ট ভালো আসা ব্যপার হবে না।

আগামি সপ্তাহের মাঝামাঝি সময়ে ECB এর মিটিং আছে। ECB আপাতত রেত অপরিবর্তিত রাখবে এবং আরো প্রণোদনা দিতে পারে বলে ধারনা করা হচ্ছে। যদি প্রণোদনা দেয় সেক্ষেতেও ইউরোর জন্য ভালো হতে পারে। তবে এটা কবে দিচ্ছে এবং কি পরিমান দিছে সেটা একটা ফ্যাক্টর।

যদি আগামী সেপেটেম্বরেই দেয় এবং ২০০+ বিলিয়নের উপরে দেয় তাহলে EUR/USD ১.১৩৫০+ এরিয়া টেস্ট করা হবে সময়ের ব্যাপার। যদি প্রণোদনা দেয় সেপ্টেম্বরের পর এবং ২০০- বিলিয়নের নিচে তাহলে EUR/USD মেজর সাপোর্ট ১.১১০০ অথবা ১.১০০০ এরিয়া টেস্ট করে পরে উঠতে পারে। এগ আগে হয়তো পসিবল হবে না। মুলট এটাই আগামী সপ্তাহে ECB মিটিং এর মুল বিষয় এবং  EUR/USD এর ডাইরেকশন নির্ধারন করবে। অন্যগুলি বিষয়গুলি যাস্ট কাজম করবে ক্যাটালিস্ট হিসেবে।

EUR/USD টেকনিক্যাল এনালাইসিস

বর্তমান রেট থেকে মার্কেট একটা রাইজিং চ্যানেলের সাপোর্ট লাইনেই আছে। অর্থাৎ ১.১২০০ এর কাছাকাছি এরিয়াতে। আর মেজর সাপোর্ট আছে ১.১১৮০/১.১১৭৫ এরিয়াতে। ১.১১৭৫ এরিয়া ব্রেক আউট হলে নেক্সট টার্গেট ১.১১১৫/১.১১০০ এরিয়া পররন্ত। এবং ১.১১০০ এরিয়া যদি ব্রেক আউট হয় ফাইনাল টার্গেট ১.১০০০ এরিয়া পর্যন্ত।

অন্যদিকে, বর্তমান রেট থেকে ইমিডিয়েট রেসিস্টেন্স আছে ১.১২৯০ এরিয়াতে। ১.১২৯০ এরিয়া ব্রেক আউট হলে নেক্সট টার্গেট ১.১৩৫০ এরিয়া পর্যন্ত। এবং ১.১৩৫০ এরিয়া ব্রেক আউট হলে ফাইনাল টার্গেট আগামী সপ্তাহের জন্য ১.১৪০০/১.১৪১২ পর্যন্ত।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here