রাবো ব্যাংক EUR/GBP নিয়ে একটা ফোরকাস্ট করেছে। আগামী অক্টোবরে ফাইনাল ব্রেক্সিট না হওয়ার চান্সই বেশী, সেক্ষেত্রে EUR/GBP প্রথমে ০.৯০০০ এরিয়া টেস্ট করে ০.৮৬০০ এরিয়াতে চলে আসতে পারে।

  • মে মাস থেকেই EUR/GBP আপ ট্রেন্ডে আছে যেকারনে এখনো ০.৯০০০ এরিয়া টেস্ট করার চান্স আছে, কিন্তু ব্রেক্সিট ডিল আবারো পিছিয়ে যাওয়ার সম্ভবনাও অনেক বলে মন্তব্য করে রাবো ব্যাংক।
  • এরিয়া একটা বড় সাইকোলজিক্যাল লেভেল, এখান থেকে মার্কেট কারেকশনে যাওয়া সহজ।
  • ২০১৮ সালের আগস্ট এবং নভেম্বর-ডিসেম্বর মাসেও EUR/GBP ০.৯১০০ এরিয়া টেস্ট করতে পারে নাই। ০.৯০৯০ এরিয়ার কাছ থেকে মার্কেট ড্রপ করেছে।
  • রাজনৈতিক এবং অর্থনৈতিক ঝামেলা থাকা সত্বেও মার্কেট এর আগেও এই এরিয়া রেস্পকেট করেছে, এবং আগামী ১-৩ মাসের মধ্যেও এই এরিয়া রেস্পেক্ট করবে।।
  • আমাদে ফোরকাস্ট আসলে তখনই কাজ করবে যদি অক্টোবরে ব্রেক্সিট না হইয়ে আরো দেরি হয়।
  • বরিশ জনসন যেকোন মূল্যে ব্রেক্সিটের পক্ষে থাকলেও, হান্ট টোটালি কোন ডিল ছাড়া ব্রেক্সিটের বিপক্ষে।

Investor Tipster এর পক্ষ থেকে একটু বিষদ আলোচনা দুই অঞ্চলের ইকোনোমিক্যাল এবং পলিটিক্যাল কন্ডিশন নিয়ে।

  • ২য় প্রান্তিকে দেখা গেছে ইংল্যান্ডের ইকোনোমিক্যাল রিপোর্টগুলি ভীষণ বাজে অবস্থা। সেদিক থেকে ২য় প্রান্তিকে ইউরোজোন কিছুটা ঘুরে দাঁড়িয়েছে।  এদিক দিয়ে ইউরো এরিয়ে পাউন্ডের চেয়ে।
  • ব্রেক্সিট হলে ব্যাংক অব ইংল্যান্ড রেট বাড়াবে, না হলে রেট কাট করে। আর ইউরোজোন উভয় অবস্থাতেই রেট কাটের পক্ষে যদি ইকোনোমিক্যাল রিপোর্ট খারাপ আসতে থাকে। এদিক দিয়ে পাউন্ড এগিয়ে ইউরোর চেয়ে।
  • ইংল্যান্ড অলরেডি বিদেশী কোম্পানিগুলির ট্যাক্স কাটের চিন্তা করতেছে, যাতে কোম্পানিগুলি ইংল্যান্ডেই থাকে। অন্যদিকে ইউরোজোন কোম্পানিগুলিকে দিচ্ছে প্রণোদনা প্যাকেজ। এদিক দিয়ে প্রায় সমান সমান। তবে স্টক মার্কেটের জন্য ইংল্যান্ডের।
  • ব্রেক্সিটের কারনে ইউরোজোন অনেক জলসীমা হারাবে, ইংল্যান্ডের মৎস্য শিল্পের বিকাশ ঘটবে, সেটা পাউন্ডের জন্য পজিটিভ বাট ইউরোর জন্য নেগেটিভ।
  • বিশ্বকাপ ফুটবল যে দেশে হয় তার ইকোনোমি পরের বছর বুস্ট আপ হয় বিভিন্ন কারনে, যেমন পার্ট টাইম জব ক্রিয়েট হয়, রিটেল সেলস বাড়ে, অবকাঠামোগত উন্নয়ন হয়, ট্যুরিজম বিকাশ করে। এক কথায় ইকোনোমির জন্য পজিটিভ হিসেবে কাজ করে। ফুটবলের মত ক্রিকেট হয়তো এত জনপ্রিয় না, বাট তারপরও ইকোনোমি অনেকটাই বুস্ট আপ হবে। যেটা পাউন্ডের জন্য ভালো হবে, ইউরো এদিক দিয়ে নিউট্রাল
  • ২০১৬ সালে যখন ব্রেক্সিট হলো তখন পাউন্ড বেশী দুর্বল হলেও ইউরোও বেশ দুর্বল হয়েছিলো। এদিক দিয়ে পাউন্ড কিছুটা নেগেটিভ ইউরোর চেয়ে।
  • গত পরশুদিন আমেরিকা ইউরোজোনের উপর ৫% ট্যারিফ বসিয়েছে, যে কারনে ইউরোর রিপোর্ট ভালো আসা এবং ডলারের রিপোর্ট খারাপ আসা সত্বেও ইউরো দুর্বল ছিলো। পাউন্ডের ক্ষেত্রে দেখা যাবে হার্ড ব্রেক্সিট হলে আমেরিকার সাথে একটা চুক্তিতে যাবে। যেয়াট এর আগেও ট্র্যাম্প অফার করেছিলো ইংল্যান্ডকে। এদিক দিয়ে পাউন্ড মোর পজিটিভ ইউরোর চেয়ে।

EUR/GBP টেকনিক্যাল লেভেল

বর্তমান রেট থেকে মেজর রেসিস্টেন্স আছে ০.৯০০০ এরিয়াতে। ০.৯০০০ এরিয়া ব্রেক আউট হলে নেক্সট টার্গেট ০.৯০৫০ এরিয়াতে এবং সর্বশেষ টার্গেট ০.৯০৮০/৯১০০ পর্যন্ত।

অন্যদিকে, বর্তমান রেট থেকে মেজর সাপোর্ট আছে ০.৮৯২০ এরিয়াতে। ০.৮৯২০ ব্রেক আউট হলে নেক্সট টার্গেট ০.৮৮২০ এরিয়া এবং ফাইনালি ০.৮৬০০ এরিয়া পর্যন্ত।


Previous articleAUD/USD এনালাইসিসঃ ৩ – জুলাই – ২০১৯
Next articleEUR/USD এনালাইসিস: NFP কেমন আসতে পারে?
২০০৬ সালে বাংলাদেশ শেয়ার বাজার দিয়ে হাতেখড়ি কলেজে পড়া অবস্থায়। পাশাপাশি ফরেক্স। ২০০৯ সালে সিংগাপুর স্কুল অব বিজনেস থেকে ডীপ্লোমা কোর্স সম্পুর্ন করে ফুল টাইম ফরেক্স স্টক এবং বন্ড মার্কেটের সাথে যুক্ত। ফান্ডামেন্টাল এনালাইসিসের সাথে টেকনিক্যাল এনালাইসিসের কম্বিনেশন করে ট্রেড সেট-আপ খুজে বের করাই আমার কাজ। এই জন্য ম্যাক্রো ইকোনোমিকস এবং গ্লোবাল পলিটিক্যাল নিউজকে প্রাধান্য দেওয়ার পাশাপাশি টেকনিক্যাল পিওর প্রাইজ একশন ফলো করা।

1 COMMENT

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here