মার্কেটে আমরা মুলত দুই ধরনের ক্যারেক্টার দেখি

১। রেঞ্জিং মার্কেট

২। ব্রেক আউট

টেকনিক্যাল ট্রেডারদের মাঝে ব্রেক আউট স্ট্রেটেজিটা খুব জনপ্রিয়, রেঞ্জিং মার্কেটের চেয়ে। আর ব্রেক আউট স্ট্রেটেজি নিয়ে কথা বলতে গেলেই সবার আগে যে বিষয়টা আসে সেটা হলো ফেইক ব্রেক আউট এর কথা। নরমালি ব্রেক আউটে কিভাবে ট্রেড করতে হয় এটা আমরা সবাই কম বেশী জানি। কিন্তু ফেইক ব্রেক আউট হলে কিভাবে হ্যান্ডেল করতে হয় সেটা আমাদের জানা সবচেয়ে বেশী দরকার। সো আজকের আর্টিকেলে আলোচনা করবো ব্রেক আউট স্ট্রেটেজি নিয়ে। এখানে উদাহরণ হিসেবে আমরা EUR/AUD পেয়ারের পোষ্ট মর্টাম করবো।

রেঞ্জ VS ব্রেক আউট

নরমালি রেঞ্জিং মার্কেটে আমরা সাপোর্টের কাছাকাছি থেকে বাই মোডে থাকি এবং রেসিস্টেন্সের কাছাকাছি থেকে আমরা সেল মোডে থাকি। আর যদি সাপোর্ট ব্রেক করে মার্কেট স্ট্যাবল হয়ে যায় সেক্ষেত্রে থাকি আমরা সেল মোডে এবং রেসিস্টেন্স ব্রেক করে যদি উপরে উঠে যায় সেক্ষেত্রে আমরা থাকি বাই মোডে।

কিন্তু হরহামেশাই দেখা যায়, সাপোর্ট ব্রেক আউট হলেও মার্কেত আর বেশিদুর না পরে উঠে যায়, এবং রেসিস্টেন্স ব্রেক করে মার্কেট আর বেশীদুর না উঠে আবার পরে যায়। এটার নামই ফেইক ব্রেক আউট। আর ফেইক আউটগুলি বেশীরভাগ ফান্ডামেন্টাল কারনে হলেও আমরা ট্রাই করবো টেকনিক্যালি এটা কিভাবে হ্যান্ডেল করা যায় সেটা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করতে। ফান্ডামেন্টাল এনালাইসিস জানা থাকলে যদিও আমরা আগে থেকেই কম বেশী বুঝতে পারি বাট টেকনিক্যালিও এটা বেশ ভালো ভাবেই হ্যান্ডেল করা যায়।

ফেইক ব্রেক আউট বুঝবো কিভাবে?

হ্যাঁ, এটাই সবচেয়ে কার্যকরী পন্থা টেকনিক্যালি মার্কেটে বুঝার জন্য ফেইক ব্রেক আউট হয়েছে কিনা। ধরেন একটা রেঞ্জিং এরিয়া ব্রেক আউট করেছে সাপোর্টে, আপনি হয়তো ধরেই নিবেন মার্কেট এখন ড্রপ করবে। কিন্তু এক্ষেত্রে আপনার প্রথমেই উচিৎ হবে আগেই সেল মোডে না থাকা।

সবার আগে যে কাজটা করবেন সেটা হলো ১ ঘন্টা বা ৪ ঘন্টার কোন ক্যান্ডেল সে সাপোর্ট এরিয়ার নিচে স্ট্যাবল হলো কিনা। সেই সাপোর্টের নিকট ১০০/২০০ মুভিং এভারেজ আছে কিনা, সেটা ১/৪ ঘন্টার ক্যান্ডেল ছাড়াও D1, W ক্যান্ডেলেও হতে পারে। সে ক্ষেত্রে আপনি অপেক্ষা করবেন সেই মুভিং এভারেজের নিচে মার্কেট ক্লোজিং হওয়া পর্যন্ত। মার্কেট বেশীরভাগ সময়ই দেখা যায় সে সাপোর্ট এরিয়া ব্রেক আউট করলেও অন্য টাইম ফ্রেমে তার নিচেই ছিলো ১০০/২০০ মুভিং এভারেজ এবং সেখান থেকে মার্কেট বড় ধরনের রিবাউন্ড করছে। এবং ফেইক ব্রেক আউট হয়েছে। এটা সবচেয়ে বেশী ঘটে, ফান্ডামেন্টাল কারন তো থাকেই।

ধরেন আপনি ফান্ডামেন্টাল এনালাইসিস খুব ভালো বুঝেন না, কিন্তু এটা তো বুঝেন যে মার্কেট ১০০/২০০ মুভিং এভারেজের উপরে নাকি নিচে ক্লোজ করলো।

২য় যেকারনে ফেইক ব্রেক আউট হয় সেটা হলো অপ্সহন এক্সপায়ারের কারনে। অপশন এক্সপায়ার যদিও ফান্ডামেন্টাল এনালাইসিস কিন্তু অপশন এক্সপায়ারের যে রেটগুলি থাকে সেগুলি কিন্তু এক ধরনের সাপোর্ট রেসিস্টেন্স। আপনি এরকম ব্রেক আউটের পর যেটা লক্ষ্য করবেন আজকের অপশন এক্সপায়ার ওই পেয়ারের কোন কোন রেটে আছে। যদি দেখেন যে যেদিকে ব্রেক আউট হয়েছে তার কাছাকাছি বড় এমাউন্ট স্ট্যাক করা আছে আপনি তখনো এন্ট্রি নিবেন না। কারন অপশন এক্সপায়ার হয় বাংলাদেশ সময় রাত ৮ /১০ টার মদ্ধে। ওই টাইমে ফেইক ব্রেক আউটের চান্স বেশী থাকে। দেখা যাবে অপশনের কারনে ব্রেক আউট ভয়েছে, আবার প্রফিট টেকের সাথে সাতেহ মার্কেট আবার আগের যায়গায় উঠে গেছে।

মার্কেট যদি বাই/সেলের কারনেই যে উঠে নামে তা কিন্তু না। প্রফিট টেক/সেল অফের কারনেও মার্কেট উঠা নামা করে।

এখন ফেইক বেক আউট বুঝার জন্য টেকনিক্যালি আরেকটা জিনিস খেয়াল করবেন সেটা হলো, মার্কেট বড় ধরনের কোন কোন পিনবার ক্যান্ডেল করে রিবাউন্ড করলো কিনা।

যদি সাপোর্ট থেকে ফেইক ব্রেক আউট করে তাহলে দেখা যাবে বুলিশ পিনবার করে মার্কেট আগের রেঞ্জিং এরিয়ার মদ্ধে ক্লোজ হবে। আর রেসিস্টেন্সে যদি ফেইক ব্রেক আউট করে তাহলে বেয়ারিশ পিনবার বা শুটিং স্টার করে সেই আগের রেঞ্জিং এরিয়ার মদ্ধে ক্লোজ হবে। সাম্পতিক গোল্ডে এমন করেছে। রেসিসটেন্সে ফেইক ব্রেক আউট করে মার্কেট ১৪৩৩ রেঞ্জিং এরিয়ার মাঝে আবার ক্লোজ হয়েছে। কিন্তু মার্কেট ফেইক ব্রেক আউট করে ১৪৩৮/৩৯ এরিয়া পর্যন্ত টেস্ট করে ছিলো।

তারমানে তেকনিক্যালি আমাদের যে বিষয়গুলি লক্ষ্য রাখতে হবে সেটা হলো

১। মার্কেট রেঞ্জিং এরিয়া ব্রেক আউট করে ১/৪ ঘন্টার ক্যান্ডেল স্ট্যাবল হলো কিনা।

২। ১/৪/D1/w ক্যান্ডেলে যেদিকে ব্রেক আউট হয়েছে তার কাছাকাছি ১০০/২০০ মুভিং এভারেজ আছে কিনা।

৩। অপশন এক্সপায়ারে বড় এমাউন্ট স্ট্যাক করা আছে কিনা, স্পেশালী বাঙ্গালদেশ সময় রাত ৮/১০ টার সময়।

৪। বুলিশ পিনবার/ বেয়ারিশ পিনবার করে আবার আগের রেঞ্জের মদ্ধে ক্যান্ডেল ক্লোজ করলো কিনা।

১ টা জিনিস মাথায় থাকলে আপনি সহজেই ফেইক ব্রেক আউট বুঝবেন।

এখন চার্টঁ লক্ষ্য করেন।

মার্কেট যখন একটা রেঞ্জ ব্রেক আউট করেছে, কিন্তু আগের রেঞ্জের মদ্ধে আর স্ট্যাবল হতে পারে নাই তখন কিন্তু মার্কেট ঠিকই ব্রেক আউট স্ট্রেটেজি ফলো করেছে। যদিও বুলিশ পিনবার করেছিলো কিন্তু পারে নাই আগের রেঞ্জিং এরিয়ার মদ্ধে স্ট্যাবল হতে।

এবার নিচের চার্ট দেখেন,

AUD/JPY মার্কেট নিচের সাপোর্ট এরিয়া ব্রেক আউট করলেও কিন্তু ২০০ মুভিং এভারেজ এরিয়ার নিচে স্ট্যাবল হতে পারে নাই, এবং টেস্ট করে উঠ গেছে আগের রেঞ্জ এরিয়ার মদ্ধে।

ফেইক ব্রেক আউটে ট্রেড নিবো কিভাবে?

খুবই সিম্পল, এক্ষেত্রে বেয়ারিশ / বুলিশ পিনবার সবচেয়ে কার্যকরী মেথড। মার্কেট যখন ফেইক ব্রেক আউট করে আবার রেঞ্জের মদ্ধে চলে আসলে বুলিশ বা বেয়ারিশ পিনবার করে তখন এন্ট্রি নিবো। সাপোর্ট থেকে বুলিশ পিনবার করে রেঞ্জিং এরিয়ার মদ্ধে ক্লোজ হবে বাই এবং রেসিস্টেন্স থেকে বেয়ারিশ পিনবার করে রেঞ্জিং এরিয়ার মাঝে স্ট্যাবল হলে আবার সেল মোডে ঢুকবো। এবং স্টপ লস হবে ক্যান্ডেলের হাই/লো।


LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here