USD গত সপ্তাহের শুক্রবার থেকেই প্রায় সকল মেজর পেয়ারের বিপরীতেই শক্তিশালী অবস্থানে আছে। গতকাল মার্কেট ওপেনিং এর দিনেও এর ব্যাতিক্রম ঘটেনি।

গতকালও আমেরিকার কোন মার্কেট মুভার ডাটা রিলিজের ছিলো না, এবং আজকে ৬.৪৫ মিনিটে পওয়েল এর স্পিচ ছাড়া ম্যাক্রো-ইকোনোমিক কোন ডাটা রিলিজ হবে না।

এটা বলা বাহুল্য আজকে পওয়েলের স্পিচ এই সপ্তাহের সবচেয়ে গুরুত্বপুর্ন স্পিচ। আজকের স্পীচের উপর নির্ভর করে শুধু এই সপ্তাহ জুরেই ডলারের ট্রেন্ড নির্ধারিত হবে না, বরং এই মাস পুরোটা জুড়েই মুভ হতে পারে। অর্থাৎ এই মাসের ৩১ শে জুলাই  FOMC এর আগ পর্যন্ত ডলার আজকে পওয়েলের স্পিচের উপর চলতে পারে।

ফেড ফান্ড ফিউচারে ৭৫% চান্স রয়েছে ২৫ বিপি রেট কাটের এই মাসে। এবং ২৫% চান্স রয়েছে ৫০ বিপি রেট কাটের।

জুলাই মাসে একবার রেট কাট হবে এমন সম্ভবনা দেখা যাচ্ছে ৯০% যেহুতু আর্নিং ড্রপ করেছে। আর অক্টোবরে রেট কাটের পসিবিলিটি ৮০%।  

এই সপ্তাহে শুধু ফেড চেয়ারম্যান পওয়েলেরি যে স্পিচ আছে তা নয়, মেজর সবগুলি সেন্ট্রাল ব্যাংক এর গভর্নরেরই স্পিচ আছে। মুলত এই সপ্তাহেই বুঝা যাবে কোন কোন সেন্ট্রাল ব্যাংক রেট কাট করতেছে এবং তাদের শম্র বাজার কন্ডিশন নিয়ে তাদের চিন্তা-ভাবনা।  

ফেড তার সর্বশেষ মনিটারি পলিসিতে বলেছিলো তাদের রেট কাট নির্ভর করতেছে ডাটার উপর, অর্থাৎ ডাটা ডিপেন্ডডেন্ট। এর পর NFP ভালো আসলো, কিন্তু আর্নিং এবং বেকার সমস্যা দুইটাই বাড়লো। হোম সেলস মিক্সড লেভেলে আছে, বিজনেস কনফিডেন্স ড্রপ করেছে। ম্যানুফ্যাকচারিং এবং সার্ভিস একটিভিটি দুইটাই ড্রপ করেছে। কঞ্জিউমার প্রাইজ রিপোর্টগুলি এখনো রিলিজ হয় নাই, হবে আগামী বৃহস্পতিবার।

কিন্তু এখন পর্যন্ত হাতে যে রিপোর্টগুলি আছে সেগুলি রেট কাটের জন্য সহায়ক বলেই আমার কাছে মনে হয়। এক NFP ছাড়া আর কোনটাই রেট ধরে রাখার অবস্থানে নাই।

আশা করি আজকের স্পিচে ফেড চেয়ারম্যান রেট কাটের হিন্টস দিবে। গত ফেব্রুয়ারি মাসেও ফেড রেট বাড়ানোর দিকে ছিলো, লেবার মার্কেট খুব শক্তিশালী ছিলো তখন, আর্নিং ভালো ছিলো, বেকার সমস্যা গত কয়েক দশকের মাঝে ড্রপ করেছিলো। সবমিলিয়ে, আমেরিকার ইকোনোমি প্রজেকশন ছিলো ব্যাপক হাই। বাট গত মাসে ফেড তাদের রেট বাড়ানো সাইকেল থেকে সরে আসে। ফেডের ভোটার মেম্বারদের মাঝে ৮ জনই এখন রেট কাটের পক্ষে। আর ট্রাম্পের চাপ তো আছেই।

গতকাল তুরস্কের প্রেসিডেন্ট এরদোগান, সেন্ট্রাল ব্যাংক এর গভর্নর কে বরখাস্ত করেছে শুধুমাত্র রেট কাট না করার কারনে। যদিও এটা খুবই হয়েছে। TRY অলরেডি ৩% দুর্বল হয়ে গেছে, স্টক ড্রপ করে ফেলেছে প্রায় ১.৫%। তুরস্ক আর আমেরিকার অবস্থা এক না। ডলার রিজার্ভ কারেন্সি রেট কম থাকলেই বরং স্টক মার্কেটের জন্য ভালো আমেরিকার। কম দামে ডলার কিনে মানূষ আমেরিকার স্টক মার্কেটে ইনভেস্ট করবে। বিভিন্ন দেশ ডলার রিজার্ভ করে রাখে। ব্যাংক রেট হাই থাকলে ফেডকে বেশী ইন্টারেস্ট দিতে হয়। রেট কম থাকলে সেটাও কম দিতে হবে। তুরস্কের ব্যাপারটা এমন না।

সবকিছু ঠিক ঠাক থাকলে যেমনটা ভাবা হচ্ছে তেমনটাই যদি ফেড চেয়ারম্যান বলে তাহলে USD/JPY ১০৯.০০ এরিয়ার উপরে স্ট্যাবল হয়ে যেতে পারে।  EUR/USD ১.১২০০ এরিয়ার নিচে চলে আসতে পারে। কারণ রেট কাট অলরেডি প্রাইজ ইন হয়ে গেছে। এই মাসে একবার রেট কাট করবে এর প্রভাব আগেই পরে গেছে। হ্যাঁ, যদি ৫০ বিপি রেট কাট এবং ইকোনোমিক্যাল কন্ডিশন বাজে অবস্থার হিন্টস দেয় তাহলে USD/JPY আবারো ১০৭.০০ এরিয়ার নিচে আসবে এবং EUR/USD  ১.১৪০০ এরিয়া টেস্ট করবে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here