অর্থনৈতিক উন্নতি হচ্ছে কিনা সেটা বুঝতে হলে অর্থনীতির কিছু মৌলিক বিষয়ে ধারণা থাকা দরকার। যদি আমরা একটা দেশের এগুলি সঠিকভাবে নিরূপণ করতে পারি তাহলে সহজেই বুঝতে পারবো দীর্ঘ মেয়াদে কোন কারেন্সি বাই/সেল মোডে থাকতে হবে। সেফ হেভেন ছাড়া শক্তিশালী অর্থনীতি মানেই সেই দেশের কারেন্সির ডিমান্ড থাকবে মার্কেটে। সাধারণ ট্রেডাররা অনেক সময় বুঝে উঠতে পারে না আসলে কীসের উপর ভিত্তি করে একটি রাষ্ট্রকে অর্থনৈতিকভাবে শক্তিশালী বলা হচ্ছে।

এই মৌলিক বিষয়গুলো খেয়াল করলে একটি রাষ্ট্রের অর্থনৈতিক শক্তির পরিচয়ও পাওয়া যায়। এবং দীর্অঘ মেয়াদে সে কারেন্সি ট্রেড করে সুবিধা পাওয়া যায়। অর্থনীতিতে প্রধান প্রধান মৌলিক বিষয়গুলো হলো জনসংখ্যা বৃদ্ধির হার, দেশের মাথাপিছু আয়ের পরিমাণ, মানব উন্নয়ন সূচক (Human Development Index), জিডিপি, জনগণের চাহিদার সাথে রাষ্ট্রের যোগান, মুদ্রাস্ফীতির হার, একটি দেশের মুদ্রার এক্সচেঞ্জ রেট বা মুদ্রা বিনিময় হার ইত্যাদি।

এখানে বিস্তারিতভাবে বিষয়গুলো আলোচনা করা হলো।

১) যদি একটি দেশের জন্মহার মৃত্যুহারের তুলনায় বেশী হয় তাহলে অর্থনীতিতে এর মানে দাঁড়ায়, সেই দেশে কর্মক্ষম জনসংখ্যার হার বৃদ্ধি পাচ্ছে, যা সেই দেশের উৎপাদন হার বাড়াতে সাহায্য করবে। উৎপাদন হার বেড়ে গেলে সেই দেশ আর্থিক দিক থেকে আরো বেশী সচল থাকবে। কিন্তু যদি এ বৃদ্ধির হার সেই দেশের জিডিপির হার থেকে বেশী হয় তাহলে আর্থিক উন্নয়নে বাঁধা চলে আসবে।

২) একটি দেশের মাথাপিছু আয়ের পরিমাণ বেশী হলে তা ঐ দেশের কর্মক্ষম জনগণের সক্ষমতা এবং উৎপাদন ক্ষমতাকে নির্দেশ করে। কারণ বেশি আয় মানেই বেশি বেশি সময় কাজ করা এবং অভিজ্ঞ হয়ে ওঠা।

৩) মানব উন্নয়ন সূচক তিনটি নির্দেশকের উপর নির্ভরশীল: ক) জিডিপি বা অর্থনৈতিক বৃদ্ধির হার, খ) লেখাপড়া এবং  গ) জীবন প্রত্যাশা। একটি রাষ্ট্রের মানব উন্নয়ন সূচক থেকে সেই রাষ্ট্রের মানুষদের জীবনযাত্রার মান সম্পর্কে ধারণা করা যায়।

8) কোনো একটি দেশের জিডিপির হার যত বেশী সেই দেশ তত বেশী উন্নয়নশীল।

৫) যেকোনো রাষ্ট্র তার দেশের মুদ্রাস্ফীতির হার কমিয়ে রাখতে চায়।

৬) এগুলো ছাড়াও একটি দেশের উন্নতি এবং আর্থিক প্রগতি সম্পর্কে বোঝার আরেকটি ভালো উপায় হচ্ছে সেই দেশের জনগণ সন্তুষ্ট আছে কিনা সেটা বিচার করা। কারণ একটি দেশের মানুষের আয় বৃদ্ধি পেলে খুব স্বাভাবিকভাবে তাদের কিছু কেনার বা ব্যবহারের চাহিদা বৃদ্ধি পাবে। কিন্তু অনেক সময় এরকম হতে পারে যে চাহিদার সাথে তাল মিলিয়ে রাষ্ট্র যোগান দিতে পারছে না। তখন জনগণের ন্যূনতম চাহিদা পূরণ হবে না।

Previous articleওয়েস্টপ্যাক কঞ্জিউমার সেন্টিমেন্ট / Westpac Consumer Sentiment
Next articleUSD – ডলার
২০০৬ সালে বাংলাদেশ শেয়ার বাজার দিয়ে হাতেখড়ি কলেজে পড়া অবস্থায়। পাশাপাশি ফরেক্স। ২০০৯ সালে সিংগাপুর স্কুল অব বিজনেস থেকে ডীপ্লোমা কোর্স সম্পুর্ন করে ফুল টাইম ফরেক্স স্টক এবং বন্ড মার্কেটের সাথে যুক্ত। ফান্ডামেন্টাল এনালাইসিসের সাথে টেকনিক্যাল এনালাইসিসের কম্বিনেশন করে ট্রেড সেট-আপ খুজে বের করাই আমার কাজ। এই জন্য ম্যাক্রো ইকোনোমিকস এবং গ্লোবাল পলিটিক্যাল নিউজকে প্রাধান্য দেওয়ার পাশাপাশি টেকনিক্যাল পিওর প্রাইজ একশন ফলো করা।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here