পৃথিবীর সবচেয়ে ভালো কাজ হলো অন্যর ভালো গুণগুলি নিজের মধ্যে আনা, ট্রেডিং ও এর ব্যাতিক্রম না। একটা ভালো অভ্যাআস একদনে গড়ে উঠে না, কিন্তু টানা প্র্যাক্টিসের ফলে সেই অভ্যাসটা আত্নস্থ হয়ে যায় ভিতরে। আমি কিছু গুনাগুণ নিয়ে আলোচনা করবো যেগুলি ভিতিরে আত্নস্থ করতে পারলে ট্রেডিং এ ভালো কিছু করা সম্ভব।

১. একটা টার্গেট ঠিক করতে হবে

একটা নিদ্রিষ্ট টার্গেটের দিকে আগানোর  চেয়ে ভালো কিছু আর নেই। আপনি প্রথমেই আগে একটা সঠিক টার্গেট ঠিক করে নেন। আপনি বলতেছি না, আপনি ডেইলি প্রফিট টার্গেট ঠিক করেন। কোন সময় প্রফিট হবে, আবার অনেক সময় লস হবে। এটাই ট্রেডিং এর ধরন।   

টার্গেটটা ঠিক করতে হবে যে, একটা নিদ্রিষ্ট এমাউন্ট প্রফিটের পর আর নতুন ট্রেড ওপেন করে বাড়তি চাপ নিবেন না। লসের ক্ষেত্রেও সেইম একই জিনিস ফলো, একটা নিদ্রিষ্ট এমাউন্ট লসের পর আর এগ্রেসিভ না হয়ে অপেক্ষা করতে থাকেন নতুন সুযোগের জন্য।

২. প্রতিটা ট্রেড লিখে রাখুন

ব্যাপারটা একটু কঠিন, কিন্তু অসম্ভব না। ট্রেডে এন্ট্রি নেওয়ার সময়ও লিখে রাখুন কেন এন্ট্রি নিলেন। ট্রেড আপনার টেক প্রফিট হিট করলেও লিখে রাখুন, এবং স্টপ লস হিট করলেও লিখে রাখুন কেন স্টপ লস হিট করলো। একটা সময় এটা আপনার অভিজ্ঞতা বাড়াতে হেল্প করবে। আপনি সহজেই বুঝতে পারবেন, আগে আপনার কি ভুলগুলি ছিলো। এটা আপনাকে আরো বেশী কৌশলী হতে শেখাবে।

৩. রিস্ক ম্যানেজমেন্ট মেনে চলুন

ব্যালেন্স যত বড়ি বা ছোটই হোক। রিস্ক ম্যানেজমেন্ট মেনে চলা জরুরি। র‍্যান্ডম ট্রেড করবেন না কখনো। একয়াট ট্রেডে ২% এর বেশী রিস্ক নিবেন না। একই কারেন্সি বিভিন্ন পেয়ারে, একই সাথে সেইম মোডে থাকবেন না। সেমন আপনি EUR/AUD বাই মোডে আছে, একই সাথে EUR/NZD বাই মোডে থাকবেন না। মেজরিটি সময় দুইটা একই দিবে যাবে। অর্থাৎ একটা লসে গেলে আরেকটাও লসে যাওয়ার পসিবিলিটি বেশী।

৪. খুব বেশী সময় ট্রেডিং এ ব্যয় করবেন না

ফুল টাইম ট্রেডাররা আজীবন লুজার ট্রেডার মনে রাখবেন। খুব বেশী সময় দিলেই শুধু মাত্র বেশী প্রফিট হবে না। মানুষ মাত্রি লোভ কাজ করবে। মার্কেট প্রতিটা মুহুর্তেই উঠা-নামা করে। আর আপনি যত সময় মনিটরের সামনে বসে থাকবেন ততই দেখা যাবে লোভ কাজ করবে। স্ক্যাল্পিং করতে মন চাইবে। অভার ট্রেড করতে ইচ্ছে করবে। মেজাজ খিটখিটে হয়ে যাবে। মার্কেট নিউজগুলির সাথে আপ টউ  টু ডেট থাকবেন। কিন্তু MT4 এ লগিন থাকবেন। যখন সুযোগ ক্রিয়েট হবে যাস্ট MT4 এ ঢুকে এন্ট্রি নিবেন।

৫. ট্রেডিং এর জন্য সুন্দর একটা পরিবেশ তৈরি করুন

 পরিবেশ একটা বিশাল জিনিস ট্রেডের জন্য। মানুষের গ্যাদারিং কম, উটকো শব্দ থেকে দূরে থাকুক।  ট্রেডিং এর জন্য ভালো একটা সেট আপ তৈরি করে নেন, স্পেশালী টেকনিক্যাল এনালাইসিসের জন্য বড় একতা মনিটর, ভালো একটা ট্রেডিং ডেস্ক, ইন্টারনেট কানেকশনটা যাতে ভালো থাকে। এমন একটা পরিবেশ ক্রিয়েট করেন। ফ্যামিলি প্রবলেম থাকতেই পারে, মন মেজাজ সব সময় একই রকম নাও থাকতে পারে। ফ্যামিলি প্রবলেম এবং ব্যাক্তিগত প্রব্লেমগুলি ট্রেডিং এর সাথে জড়াবেন না। আগে সমস্যাগুলি সমাধান করে নিবেন, তারপর ট্রেডে মনোযোগ দিবেন। মন মেজাজ খারাপ থাকলেও ট্রেডে সময় দেওয়ার দরকার নাই। আগে রিফ্রেশ হোন। নইলে ট্রেডে নেগেটিভ প্রভাব পরবে। আর চেষ্টা করবেন একটা রুটিন মেনে চলার।

৬. মার্কেট বন্ধের দিনগুলি কাজে লাগান

প্রতি শনি/রবি মার্কেট বন্ধ থাকে। এই দিনগুলিতে নিজেকে রিফ্রশ হওয়ার সুযোগ দিন। পরিবার এবং ধর্মীয় কাজে একটু বেশী সময় ব্যয় করুন। এবং সুযোগ মত পরের সপ্তাহের মার্কেট এনালাইসিস করে রাখুন। চার্টগুলি আকিয়ে রাখুন, কি কি বড় বড় ইভেন্ট আছে সেগুলি নোট করে রাখুন। কোন ইভেন্টে ট্রেড করতে চান সেগুলি নোট করে রাখুন এবং প্রয়োজনীয় তথ্যগুলি সংগ্রহ করে রাখুন। যাতে সোমবার মার্কেট ওপেনিং এ কনফিডেন্সের কোন ঘাটতি না থাকে।

৭. সামাজিক হোন

ট্রেডিং এর জন্য অবশ্যই একতা শান্ত পরিবেশের দরকার আছে। কিন্তু তাই বলে সারাক্ষণ একাএকা থাকবেন না। অন্য ট্রেডারদের সাথে ট্রেড নিয়ে আলোচনা করুন। অভিজ্ঞ ট্রেডারদের সাথে তাদের অভিজ্ঞতা নিয়ে আলোচনা করুন, নিজে ট্রেড এনালাইসিস করে অন্য ট্রেডারদের সাথে শেয়ার করুন। এখন ফেসবুকে, টেলিগ্রামে বিভিন্ন গ্রুপে আছে সেখানে নিজেকে একটিভ রাখুন। আমি আর্টিকেল লেখি শুধুমাত্র এই একটা কারনে। আমি যখন আর্টিকেল লেখি তখন আমাকে অনেক কিছু পড়তে হয়, চার্ট আকাতে হয়। আর্টিকেল লেখায় আমার বিন্দুমাত্র কোন লাভ নাই। তবুও লেখি। কারন এতে করে আমার জ্ঞ্যান বাড়ে, ট্রেডে কনফিডেন্স বাড়ে, অভিজ্ঞতা বাড়ে। তবে মনে রাখবেন আমাদের বাংলাদেশীদের সবার সেন্টিমেন্ট এক না। আপনি যখন বেশী একটুভ হবেন, কিছু পরশ্রীকাতর লোক আপনাকে প্রতিদ্বন্দ্বী ভাবা শুরু করে দিবে। আপনাকে পিছন থেকে টেনে ধরতে চাইবে। এমন অভিজ্ঞতা আমার জীবনে বহুবার ঘটছে, বহুবার ট্রাই করছে আমাকে ট্রেনে ধরার। এখনো করে। যেকারনে সকল গ্রুপে থেকেই নিজেকে গুটিয় নিছি, নিজের ব্লগে লিখি। নিজের ফেসবুক পেইজ এবং গ্রুপে লিখি। নিজের টেলিগ্রাম চ্যানেল এবং গ্রুপে লিখি। আপনার সেন্টিমেন্ট, মনের সাথে মিলে এমন গ্রুপের সাথে থাকবেন অলয়েজ, সব গ্রুপে না।

৮. শেখা কখনো বাদ দিবেন না

আপনার কাছে মনে হবে আপনি সবকিছুই বুঝেন, কিন্তু তারপরও কখনো শেখা বাদ দিবেন না। তাহলে আপনি শেষ।  প্রতিদিন নিদ্রিষ্ট একতা সময় বের করুন পড়াশোনার জন্য।  এই মার্কেটে শেখার কোন শেষ নাই। স্পেশালী ফান্ডামেন্টাল এনালাইসিস আপনি কোন দিনই শিখে শেষ করতে পারবেন না। যত পড়বেন তত স্কিল ডেভেলপ হবে, ভালো অভ্যাস গড়ে উঠবে। সপ্তাহে দুই দিন মার্কেট বন্ধ থাকে, এটলিস্ট সেই দুই দিনে কিছু হলেও ট্রেড নিয়ে পড়াশোনা করেন। গাইতে গাইতে গায়েন, বাজাইতে বাজাইতে বায়েন। পড়তে পড়তেই এক সময় ভালো ট্রেডার হয়ে যাবেন।  নতুন নতুন স্ট্রেটেজি নিয়ে হোম ওয়ার্ক করেন। ডেমোতে প্র্যাক্টিস করেন। এক কথায় যেভাবে শেখা যায় সকল পন্থা অবলম্বন করেন।

1 COMMENT

  1. So so much important advice. If we implement in our trading life we can gain not only in trade but also in our personal life..

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here